নাচানাচি-দৌড়ঝাঁপের পর এবার ঘরের কাজে নজর চীনা রোবট কোম্পানিগুলোর, বিক্রি বাড়ার আশা
নাচানাচি আর দৌড়ঝাঁপের গণ্ডি পেরিয়ে এখন ঘরের কাজে মন দিচ্ছে চীনা রোবট নির্মাতারা। সম্প্রতি বেইজিংয়ে এক প্রদর্শনীতে দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো দেখতে) রোবটগুলো ঘর পরিষ্কার করছে এবং ফুলের তোড়া সাজাচ্ছে। ভবিষ্যতে ঘরের দৈনন্দিন ও জটিল কাজে রোবটের ব্যবহার কতটা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করছে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো।
চীনা স্টার্টআপ 'এক্স স্কয়ার রোবট' মঙ্গলবার এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ওয়াং কিয়ান জানান, রোবটের হার্ডওয়্যার বা শরীর প্রায় প্রস্তুত হলেও তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মস্তিষ্ক এখনো সেভাবে উন্নত হয়নি। মাঠে ম্যারাথন দৌড় বা ডিগবাজি দেওয়া রোবটের জন্য যতটা সহজ, অগোছালো ঘর গোছানো বা কাপড় ভাঁজ করা ততটাই কঠিন। তিনি বলেন, ঘরের কাজে সূক্ষ্মতার প্রয়োজন হয়। কাজের সময় মাত্র শূন্য দশমিক ১ মিলিমিটারের হেরফের হলেই পুরো কাজ পণ্ড হয়ে যেতে পারে।
ঘর গোছানোর ক্ষেত্রে একেক বাড়ির পরিবেশ একেক রকম হয়। এই অগোছালো পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দিতে 'ওয়াল-বি' নামে একটি এআই মডেল তৈরি করেছে স্টার্টআপটি। ১০০টির বেশি বাড়ির তথ্য ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে। এখানে পোষা প্রাণী বা ঘরে বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতিতে রোবট কীভাবে কাজ করবে, তা শেখানো হয়েছে। আগামী মে মাসের শেষ নাগাদ ঘর পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত রোবটগুলোতে এই প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে।
চীনের শেনজেন শহরে এরই মধ্যে রোবট দিয়ে ঘর পরিষ্কারের সেবা চালু হয়েছে। ৩ ঘণ্টার এক শিফটের জন্য খরচ পড়ছে ১৪৯ ইউয়ান (প্রায় ২১ দশমিক ৯০ ডলার)। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি বাড়িতে এই সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, রোবট এখনো বেশ ধীরগতির এবং অনেক সময় অসংলগ্ন আচরণ করে। ওয়াং জানান, রোবটগুলো এখনো পুরোপুরি নিখুঁত নয়। কখনো কখনো এটি ঘরের চটি জুতো রান্নাঘরে রেখে দেয়, আবার কখনো টেবিল মুছতে মুছতে 'ভাবার' জন্য মাঝপথে থেমে যায়। রোবট কোনো কাজে আটকে গেলে বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে কোম্পানির কর্মীরা দূর থেকে প্রযুক্তির সাহায্যে তা নিয়ন্ত্রণ করেন।
শাওমি ও আলিবাবার মতো বড় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানরা এই খাতে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। ওয়াং মনে করেন, ভবিষ্যতে রোবট যখন ঘরের কাজে নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে, তখন এর বাজার হবে বিশাল। তিনি বলেন, 'দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২০ শতাংশই আসে গৃহস্থালি শ্রম থেকে। ফলে রোবটের মাধ্যমে এই বাজার ধরার বড় সুযোগ রয়েছে।'
