নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে, জানাল ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় দেশটির নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। আজ সোমবার (২ মার্চ) জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানান।
ভিয়েনায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৩৫ সদস্যের বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি বলেন, "গতকাল আবারও তারা ইরানের শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতাধীন পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।"
কোন স্থাপনায় হামলা হয়েছে রয়টার্স জানতে চাইলে—এর জবাবে তিনি বলেন, "নাতাঞ্জ।"
অন্যদিকে, আইএইএ জানিয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন ইঙ্গিত তাদের কাছে নেই।
সোমবার বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, "আমাদের কাছে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে।"
ইরানের দূত একদিন পূর্বেই একটি স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তোলার ঠিক আগে গ্রোসি এই মন্তব্য করেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে তেহরানের ওপর সাম্প্রতিক আক্রমণ অভিযানের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের অভিযোগ, ইরান এমন অবস্থানের দিকে এগোচ্ছিল, যেখানে ভবিষ্যতে পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করত।
তবে গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনা অবশিষ্ট ছিল, সেগুলো এবারের অভিযানে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।
গ্রোসি বলেন, "আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই যে কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ... ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।"
এই মূল্যায়ন কোন ভিত্তিতে করা হয়েছে—তা স্পষ্ট নয়। কারণ একই বক্তব্যে তিনি জানান, সংস্থাটি এখনো ইরানে তাদের সমপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, "ইরানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আমরা আশা করছি, এই অত্যাবশ্যক যোগাযোগ চ্যানেল যত দ্রুত সম্ভব পুনঃস্থাপিত হবে।"
গত জুনে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় বোমাবর্ষণের পর থেকে তেহরান আইএইএ'র পর্যবেক্ষকদের আর ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।
