দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস পেলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল
প্রায় দুই বছর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপর মাসের পর মাস কেটেছে জেলে। অবশেষে ভারতের একটি আদালত দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে সেই দুর্নীতির মামলা খারিজ করে দিয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তার সরকারের মদ নীতি নাকি বেসরকারি বিক্রেতাদের অন্যায্য সুবিধা দিয়েছিল।
শুক্রবার আদালত কেজরিওয়ালসহ ২৩ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ওই আবগারি নীতিতে 'বড় কোনো ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না'।
দুর্বল তদন্তের জন্য বিচারক সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন। এমনকি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই তদন্তের সুপারিশ করেছেন তিনি। তবে সিবিআই জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
শুক্রবারের এই আদেশের পর আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন কেজরিওয়াল। তখন সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীষ সিসোদিয়া তাকে জড়িয়ে ধরেন।
কেজরিওয়াল বলেন, 'শেষ পর্যন্ত অধর্ম আর অবিচার পরাজিত হয়েছে, কেবল সত্যই জয়ী হয়েছে।'
এই মামলায় ২০২৩ সালে সিসোদিয়া এবং আম আদমি পার্টির (আপ) মুখপাত্র সঞ্জয় সিংকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালত যে ২৩ জনকে অব্যাহতি দিয়েছে, তাদের মধ্যে তারাও আছেন।
গ্রেপ্তারের পর আম আদমি পার্টির এই তিন নেতাকেই দীর্ঘ সময় জেলে কাটাতে হয়েছে। নিম্ন আদালত ও দিল্লি হাইকোর্ট বারবার তাঁদের জামিন নাকচ করেছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তাঁরা স্বস্তি পান।
কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছিলেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং বিরোধী নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। রাজধানীতে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো বিজেপির নিয়ন্ত্রণেই থাকে। তবে বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আইনি খবরবিষয়ক ওয়েবসাইট 'বার অ্যান্ড বেঞ্চ' জানিয়েছে, শুক্রবার দিল্লির রাউস এভিনিউ আদালত সিবিআইয়ের সমালোচনা করেছে। আদালত বলেছে, সংস্থাটি 'নিছক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ষড়যন্ত্রের গল্প সাজানোর চেষ্টা করেছে'।
এ ছাড়া রাজসাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে মামলা সাজানোয় আদালত সিবিআইকে তিরস্কার করেছে। ক্ষমা বা সাজা কমানোর বিনিময়ে অপরাধীরা অনেক সময় রাজসাক্ষী হয়ে থাকে।
আদালত বলেছে, 'এমন আচরণ চলতে দেওয়া হলে তা হবে সাংবিধানিক নীতির চরম লঙ্ঘন... সুষ্ঠু বিচারের জন্য সুষ্ঠু তদন্ত অপরিহার্য।'
আদালত আরও জানিয়েছে, এই মামলায় এমন বাজে তদন্তের জন্য সিবিআই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ করা হবে।
যে মদ নীতি নিয়ে আম আদমি পার্টির নেতাদের গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল, তা কেজরিওয়াল সরকার ২০২১ সালে চালু করেছিল। তখন বলা হয়েছিল, এতে কালোবাজারি কমবে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং মদের লাইসেন্স সব জায়গায় সমানভাবে বণ্টন নিশ্চিত হবে।
কিন্তু কয়েক মাস পরেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা অভিযোগ করেছিলেন, আপ সরকার নিয়ম ভেঙে বেসরকারি মদ ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিচ্ছে।
সাক্সেনার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২২ সালের জুলাই মাসে সিবিআই মামলাটি দায়ের করেছিল।
