৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দেবে স্পেন
ইউরোপজুড়ে যখন অভিবাসনবিরোধী মনোভাব প্রবল হচ্ছে এবং সীমান্ত কড়াকড়ি আরোপের প্রবণতা বাড়ছে, ঠিক তখনই স্রোতের বিপরীতে হেঁটে বড় সিদ্ধান্ত নিল স্পেন সরকার। দেশটি প্রায় ৫ লাখ অনিবন্ধিত বা অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ করার ডিক্রি [আদেশ] পাস করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দেশটির মন্ত্রিসভা এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি অনুমোদন করেছে, যা নিয়ে দেশটিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
আগামী এপ্রিল থেকে নতুন এই ডিক্রি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় ২০২৫ সালের শেষ হওয়ার আগে যারা অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দিতে পারবেন, তাদের এক বছরের জন্য বসবাস (রেসিডেন্স) ও কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়া হবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টি এবং বামপন্থী দল পোডেমোস মিলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মূলত জনবলের ঘাটতি পূরণ এবং দেশের বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলায় এই নীতি অপরিহার্য বলে দাবি করছে সরকার। পার্লামেন্টে বিভক্তি থাকায় আইনপ্রণেতাদের এড়িয়ে সরাসরি ডিক্রি জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, 'স্পেনে মানুষের অভাব রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, দেশকে 'একটি বদ্ধ ও দরিদ্র জাতি' হওয়া অথবা 'সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করা'—এই দুইয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্পেনের বিরোধী দলগুলো। বিষয়টিকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছে। প্রধান বিরোধী দল পপুলার পার্টির (পিপি) নেতা আলবার্তো নুনেজ ফেইজো অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট জাতীয় সংকট থেকে 'নজর সরানোর চেষ্টা' করছেন সানচেজ।
তিনি এই গণবৈধকরণ প্রক্রিয়াকে 'অবৈধ অভিবাসনের পুরস্কার' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ক্ষমতায় ফিরলে এই আইন বাতিলের শপথ নেন।
অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থী দল ভক্সের নেতা সান্তিয়াগো আবাকাল আরও কঠোর ভাষায় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বড় আকারের 'আগ্রাসন' বা ইনভেশন প্রচার করার অভিযোগ তুলে বলেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় জনসংখ্যাকে 'প্রতিস্থাপন' (রিপ্লেস) করা হচ্ছে। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে বিতাড়নের (ডিপোর্টেশন) দাবি জানান।
ইউরোপে যখন ডানপন্থী দলগুলোর উত্থান ঘটছে এবং অভিবাসন নীতি কঠোর করা হচ্ছে, তখন স্পেনের এই উদ্যোগ ব্যাতিক্রমী। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন।
গত সপ্তাহে দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতির মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের 'ধ্বংস' করছে। তিনি বলেন, এর ফলে 'অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে, জীবনযাত্রার মান নিচে নেমেছে, জন্মহার হ্রাস পেয়েছে, সামাজিকভাবে ধ্বংসাত্মক অভিবাসন বেড়েছে এবং শত্রুতাপূর্ণ বিদেশি প্রতিপক্ষের কাছে দুর্বলতা বেড়েছে।'
অন্যদিকে, গত মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছিলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া আশা করেছিল 'সভ্য পশ্চিমা পরিবারে' তাদের স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু তারা আবিষ্কার করেছে যে, 'সেখানে সভ্যতার অস্তিত্ব নেই, যা আছে তা কেবলই অধঃপতন।'
