তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান নিহত
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে সেনাপ্রধানসহ বিমানটির সব আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন।
এক ফেসবুক বার্তায় সেনাপ্রধানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দ্বেইবা। তিনি জানান, প্রতিনিধিদলটি দেশে ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়।
নিহতদের মধ্যে লিবিয়ার চারজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা ও তিনজন ক্রু সদস্য রয়েছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার পেছনে নাশকতার কোনো আলামত পাননি। প্রাথমিক তদন্তে তারা জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই সম্ভবত বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই দুর্ঘটনা দেশ, সেনাবাহিনী ও জনগণের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা এমন মানুষদের হারিয়েছি, যারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন। তারা ছিলেন শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ।'
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সারাজ আল-হাদ্দাদকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
মোহাম্মদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদ পশ্চিম লিবিয়ার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ছিলেন । ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে বিভক্ত লিবিয়াকে এক করার প্রচেষ্টায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চলমান ঐক্য প্রক্রিয়ায়ও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
দুর্ঘটনায় নিহত অন্য চার কর্মকর্তা হলেন লিবিয়ার স্থলবাহিনীর প্রধান জেনারেল আল-ফিতুরি ঘারিবিল, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ আল-কাতাউই, সেনাপ্রধানের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাওয়ি দিয়াব এবং আলোকচিত্রী মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।
তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা আলোচনায় অংশ নিতে লিবিয়ার প্রতিনিধিদলটি আঙ্কারায় গিয়েছিল।
ত্রিপোলির জাতিসংঘ–স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তুরস্ক তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০২০ সালে লিবিয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে তুরস্ক সেখানে সেনা পাঠায় এবং পরে সমুদ্রসীমা নিয়ে চুক্তি করে। ২০২২ সালে দুই দেশ জ্বালানি অনুসন্ধান নিয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিও স্বাক্ষর করে।
তবে সম্প্রতি 'ওয়ান লিবিয়া' নীতির আওতায় তুরস্ক তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। পশ্চিমের পাশাপাশি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াচ্ছে আঙ্কারা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লিবিয়ায় অবস্থানরত তুর্কি সেনাদের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়াতে তুরস্কের পার্লামেন্টে বিল পাসের ঠিক পরদিন এই দুর্ঘটনা ঘটল।
তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে নাশকতার প্রমাণ মেলেনি; যান্ত্রিক ত্রুটিকেই দুর্ঘটনার কারণ মনে করা হচ্ছে। এদিকে তদন্তে সহায়তা করতে লিবিয়া থেকেও একটি প্রতিনিধিদল তুরস্কে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় ত্রিপোলিভিত্তিক লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যের সরকার (জিএনইউ) দেশজুড়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ সময় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং সব ধরনের সরকারি অনুষ্ঠান স্থগিত থাকবে।
