গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনার জের: ট্রাম্পের ওপর নজর রাখছে ডেনমার্কের ‘নাইট ওয়াচ’
ডেনমার্ক সরকার তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে 'নাইট ওয়াচ' নামে বিশেষ একটি দল গঠন করেছে। তবে সেটি জনপ্রিয় টিভি সিরিজ 'গেম অব থ্রোনস'-এর মতো কোনো 'ওয়াইল্ডলিং' কিংবা 'হোয়াইট ওয়াকারদের' ঠেকানোর জন্য নয়; বরং ডেনমার্কের মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প কী করছেন বা কী বলছেন—তার ওপর নজর রাখাই এই দলের কাজ।
ডেনমার্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয় 'নাইট ওয়াচ'-এর দায়িত্ব। পরদিন সকাল ৭টার মধ্যে তারা একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠায়। রাতে ট্রাম্প কী ঘোষণা দিয়েছেন বা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন—এর সব তথ্যই সেই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত থাকে। খবরটি প্রকাশ করেছে ডেনিশ পত্রিকা পলিটিকেন।
মূলত চলতি বছরের শুরুতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর্কটিকের এই দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বা কিনে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে দুই দেশের মধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পলিটিকেন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ডেনমার্কের কূটনীতিতে ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে পরিবর্তন আনতে হয়েছে— এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ান-কে জানিয়েছে, 'গ্রিনল্যান্ড পরিস্থিতি এবং ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্রের সময়ের ব্যবধান— এই দুটিই এমন ব্যবস্থা চালুর পেছনে বড় কারণ।'
সকালে ঘুম থেকে উঠেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি জানতে কর্মকর্তাদের আর ব্যক্তিগতভাবে ফোনের ওপর নির্ভর করতে হয় না। পররাষ্ট্র দপ্তর এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্প-সম্পর্কিত আপডেট সংগ্রহের জন্য এই 'সম্মিলিত প্রচেষ্টা' গ্রহণ করেছে।
ডেনিশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান বিশ্লেষক জ্যাকব কার্সবো এ বিষয়ে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র—এ ধারণা এখন আর ততটা মজবুত নয়, এই ঘটনাই তা দেখাচ্ছে। মৈত্রী সাধারণত অভিন্ন মূল্যবোধ ও অভিন্ন হুমকির ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। ট্রাম্পের সঙ্গে আমাদের এসব বিষয়ে কোনো মিল নেই। আর আমি বলব, অধিকাংশ ইউরোপীয়র সঙ্গেও তার এমন মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।'
