লস অ্যাঞ্জেলেস বিক্ষোভের লাইভ চলাকালে রাবার বুলেটে গুলিবিদ্ধ অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক
লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের সংবাদ প্রচারের সময় রাবার বুলেটের গুলিতে আহত হয়েছেন এক অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক। সরাসরি সম্প্রচারের [লাইভ] সময় ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার—বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
গুলিবিদ্ধ হওয়া সাংবাদিক লরেন টোমাসি, অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজের মার্কিন প্রতিনিধি।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার সময় সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন লরেন। তিনি বলছিলেন, 'ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুখোমুখি অবস্থানের পর পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে। এলএপিডি সদস্যরা ঘোড়ায় চড়ে এগিয়ে আসছে, রাবার বুলেট ছুঁড়ছে এবং বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বাধ্য করছে।'
এই বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই টোমাসি নিজেই রাবার বুলেটের গুলিতে আহত হন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক পুলিশ সদস্য তাকে ও তার ক্যামেরা অপারেটরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। টোমাসিকে কেঁদে উঠে পায়ে হাত দিতে দেখা যায়, আর এক প্রত্যক্ষদর্শী চিৎকার করে বলেন, 'তুমি একটা রিপোর্টারকে গুলি করেছ!'
পরে আশপাশের লোকজন জানতে চাইলে টোমাসি বলেন, 'আমি ঠিক আছি।'
ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, 'সব সাংবাদিকের নিরাপদে কাজ করার অধিকার আছে।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'অস্ট্রেলিয়া সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষাকে সমর্থন করে।'
ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। গ্রিন পার্টির সিনেটর সারাহ হ্যানসন-ইয়ং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে 'তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা' দাবি করেন।
তিনি বলেন, 'একজন অস্ট্রেলীয় সাংবাদিকের ওপর গুলি চালানো বিস্ময়কর ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।'
হ্যানসন-ইয়ং বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্টকে প্রথমেই বলতে হবে—আমাদের সাংবাদিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ করুন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি শক্তিশালী, কার্যকর গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভ।'
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ন্যাশনাল পার্টির সিনেটর ম্যাট কানাভান বলেন, 'দেখে মনে হচ্ছে তাকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে আমি শুধু ভিডিওর একটি অংশ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই না।' তিনি আরও বলেন, 'এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি।'
অন্যদিকে, গ্রিন পার্টির আরেক সিনেটর নিক ম্যাককিম বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে—এটা এখনই করতে হবে। অপেক্ষা করার সময় নেই।'
ম্যাককিম বলেন, 'যদি প্রধানমন্ত্রী ফোন না করেন, অন্তত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করা।'
