৩৪ বছর বয়সে প্রয়াত ‘ব্রেকিং ব্যাড’ তারকা আরজে মিটি
ড্রামা সিরিজ 'ব্রেকিং ব্যাড'-এ মাদক সম্রাট ওয়াল্টার হোয়াইটের একরোখা ছেলের চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পাওয়া মার্কিন অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর।
তার প্রতিনিধি বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি, সবার প্রিয় অভিনেতা, সমাজসেবী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের অধিকার আদায়ের সমর্থক আরজে মিটি আর আমাদের মাঝে নেই।'
টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে মারা যান তিনি। তবে মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ব্রায়ান ক্র্যানস্টন ও অ্যারন পল অভিনীত এমি-জয়ী সিরিজটিতে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়রের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিটি। বাস্তব জীবনেও তিনি সেরেব্রাল পালসি-তে আক্রান্ত ছিলেন। পর্দায় চরিত্রটিকে জীবন্ত করতে নিজের সেই যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। এ অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে তার হাতে ওঠে সম্মানজনক স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড।
ইউনাইটেড সেরেব্রাল পালসি ও শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের মতো সংগঠনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন মিটি।
সমাজসেবা ও তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন দ্য মিটি ফাউন্ডেশন।
বিবিসিকে দেওয়া বিবৃতিতে অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ। তারা জানিয়েছে, ঠিক কীভাবে বা কী কারণে মিটির মৃত্যু হয়ে, তা এখনও নিশ্চিত নয়; তদন্ত চলছে। তবে তার মৃত্যুর পেছনে আপাতত কোনো চক্রান্ত বা অপরাধমূলক কিছু পাওয়া যায়নি।
ক্যামেরন কাউন্টির জাস্টিস অভ দ্য পিস সিন্ডি হিনোজোসা বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ১২ অক্টোবর মিটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থল অভিনেতার নিজের বাড়ি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল—টানা পাঁচ সিজন ধরে মার্কিন কেবল নেটওয়ার্ক এএমসি-তে সম্প্রচারিত হয়েছিল জনপ্রিয় সিরিজ 'ব্রেকিং ব্যাড'।
ভিন্স গিলিগান নির্মিত এই অ্যান্টি-হিরো ড্রামা সব মিলিয়ে ৫৮টি প্রাইমটাইম এমি নমিনেশন পেয়েছিল। জিতেছিল ১৬টি পুরস্কার, যার মধ্যে ২০১৩ ও ২০১৪ সালের আউটস্ট্যান্ডিং ড্রামা সিরিজের মুকুটও রয়েছে।
সিরিজে নিউ মেক্সিকোর এক হাইস্কুলের রসায়ন শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। শরীরে ক্যানসার বাসা বাঁধার পর, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে তিনি পা বাড়ান অপরাধ জগতের অন্ধকার গলিতে। মেথ পাচারের আন্ডারওয়ার্ল্ডে যত গভীরে তলিয়ে যেতে থাকেন তিনি, ততই দূরত্ব বাড়তে থাকে ছেলে ওয়াল্ট জুনিয়রের সঙ্গে। পুরো সিরিজজুড়েই সূক্ষ্ম রসবোধ ও ব্যঙ্গের মোড়কে বাবার প্রতি সেই ক্ষোভ আর অভিমান উগরে দিয়েছে ছেলে।
হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া বিবৃতিতে শোকপ্রকাশ করে সিরিজের অন্যতম প্রধান চরিত্র জেসি পিঙ্কম্যানের চরিত্রে অভিন করা অ্যারন পল বলেন, এই মৃত্যুতে তিনি শোকাহত। পল বলেন, 'আরজে, বন্ধু আমার, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি সবসময় আমাদের শূন্যতায় ভাসাবে।'
মিটির বেড়ে ওঠা লুইজিয়ানায়। ২০০৫ সালে ছোট বোনের অভিনয় ক্যারিয়ারে সাহায্য করতে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমায় তাদের পরিবার। ওই সময়ই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ওই চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছিলেন কিশোর মিটি।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের জনসচেতনতামূলক একটি বিজ্ঞাপনের জন্য জীবনের প্রথম অডিশন দিয়েছিলেন তিনি, যার বিষয়বস্তু ছিল মেথামফেটামিন মাদকের বিরুদ্ধে প্রচার।
চলতি মাসের শুরুতেই জো ভলপিস পডকাস্টে সেই স্মৃতিচারণ করে মিটি বলেছিলেন, 'এরপর ব্রেকিং ব্যাড-এর অডিশন। আমার মতে, এই সিরিজটাও আসলে সেই মেথ-বিরোধী প্রচারেরই একটা অংশ। কারণ এই মাদকের চক্রে জড়িয়ে কারও পরিণতিই শেষপর্যন্ত ভালো হয়নি।'
সিরিজের স্রষ্টা ভিন্স গিলিগানের এক প্রয়াত বন্ধুর ছায়ায় গড়ে উঠেছিল ওয়াল্ট জুনিয়র চরিত্রটি। গিলিগানের সেই বন্ধুও সেরেব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন, তবে তার অবস্থা ছিল আরও গুরুতর। হাঁটার জন্য তাকে হাতের ক্রাচ ব্যবহার করতে হতো, মিটের ক্ষেত্রে সে প্রয়োজন ছিল না।
পর্দায় চরিত্রটিকে সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন মিটে। একজন কিশোর হিসেবে কথায় কথায় তার রসিকতা দর্শক উপভোগ করেছে। তবে পুরো সিরিজে ওই কিশোরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা কখনও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
খ্যাতি লাভের পর মিটি প্রতিবন্ধী মানুষদের পর্দায় আরও বৈচিত্র্যময় ও জটিল চরিত্রে তুলে ধরার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
'ব্রেকিং ব্যাড' ছাড়াও 'হান্নাহ মন্টানা', 'সুইচড অ্যাট বার্থ', ও 'ওয়েস্টহ্যাম্পটন'-এ অভিনয় করেছেন মিটি। তার অভিনীত সর্বশেষ প্রজেক্ট 'টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স' চলতি বছরের শুরুতেই মুক্তি পেয়েছে।
