বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়ছে, তবে চার্জিং ও সহায়ক নেটওয়ার্কের ঘাটতিতে থমকে আছে প্রসার
বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, তবে সীমিত চার্জিং সুবিধা, অতিরিক্ত বিনিয়োগ খরচ এবং বিক্রয়োত্তর সেবা ও ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারের ঘাটতির কারণে এর ব্যাপক প্রসার থমকে আছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের মতে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন শুরু হলেও মূলত ২০২৫ সাল থেকে এর বিক্রি গতি পেতে শুরু করে।
দেশের নিউ-এনার্জি ভেহিকল (এনইভি) বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গাড়ির বাজারে অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করেছে, যার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেল রয়েছে। বর্তমানে তারা সাতটি ফ্ল্যাগশিপ শোরুম পরিচালনা করছে।
বিওয়াইডি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীদ সাকিফ খানের মতে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪২টি করে মোট প্রায় ৫০০টি নিউ-এনার্জি ভেহিকল বিক্রি করেছিল। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে এসে তাদের গড়ে মাসিক বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৬০টিতে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ।
আমীদ সাকিফ জানান, 'কম পরিচালন খরচ এবং পরিবেশগত সচেতনতার কারণে বর্তমানে শুধু প্রাথমিক ক্রেতাদের মধ্যেই নয়, বরং পরিবার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট গ্রাহকদের মধ্যেও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা ছড়িয়ে পড়েছে।
চাঙ্গান অটোমোবাইলের 'দীপাল' ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির একচ্ছত্র পরিবেশক ডিএইচএস অটোসের মার্কেটিং লিড মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তুষার বলেন, 'গ্রাহকদের অনুসন্ধানের ধরন এখন বদলেছে। আগে তারা যেখানে শুধু চার্জিং, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা এবং ঢাকার বাইরে গাড়ি চালানো সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রশ্ন করতেন, এখন তারা গাড়ির পরিচালনা খরচ, ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং পুনঃবিক্রি মূল্য নিয়ে জানতে চাইছেন।'
দীপাল তাদের বিক্রির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও তুষার জানান, 'গ্রাহকদের তথ্য জানার আগ্রহ, টেস্ট ড্রাইভ নেওয়া এবং তাদের ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে।' তিনি বলেন, 'গাড়ির দাম, অর্থায়ন, করব্যবস্থা, চার্জিং সুবিধা, ব্যাটারির স্থায়িত্ব এবং রিসেল ভ্যালুর পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থাহীনতাই এখনও সবচেয়ে বড় বাধা।'
তিনি আরও বলেন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা নিজস্ব চার্জার বসানো এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়েন। অন্যদিকে মহাসড়কে চলাচলকারী চালকদেরও যাতায়াতের পথে নির্ভরযোগ্য চার্জিং সুবিধা প্রয়োজন।
বিনিয়োগ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ
বাংলাদেশে ইভি চার্জিং নেটওয়ার্কের প্রসার ঘটছে ঠিকই, তবে সড়কে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবসা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে তাদের জন্য বিপুল পরিমাণ প্রাথমিক বা প্রারম্ভিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করাও কষ্টসাধ্য হচ্ছে।
সাকিফ জানান, 'বিওয়াইডি গাড়ি চার্জ দেওয়ার উপযোগী প্রায় ৩০টি পাবলিক বা সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য চার্জিং স্টেশন দেশজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে। 'ক্র্যাকপ্লাটুন চার্জিং সলিউশনস' বর্তমানে ৩২টি পাবলিক চার্জিং ইউনিট, ২৪১টি প্রাইভেট ইউনিট এবং ৩৩৫টি আবাসিক চার্জার পরিচালনা করছে—যার বড় অংশই ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থিত। পাশাপাশি কুমিল্লা, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরেও তাদের সেবা বিস্তৃত রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে মোট ১ হাজার ৯৭২টি চার্জিং সেশন রেকর্ড করেছে, যেখানে ৩৩.৭৩ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, যা ২০২৫ সালে ছিল যথাক্রমে ৪৬১টি সেশন এবং ১১.৮৮ মেগাওয়াট-ঘণ্টা। দৈনিক গড় সেশনের সংখ্যাও বেড়েছে—ডাইরেক্ট কারেন্ট (ডিসি) চার্জারের ক্ষেত্রে যা আগের ০.৮ থেকে বেড়ে ৩-এ এবং অল্টারনেটিং কারেন্ট (এসি) চার্জারের ক্ষেত্রে ০.২৩ থেকে বেড়ে ০.৫৭-এ উন্নীত হয়েছে।
চার্জারের ব্যবহার বাড়লেও এর সার্বিক ব্যবহারের হার এখনও বেশ কম। যেমন, কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ১২০ কিলোওয়াটের ডিসি চার্জারের ব্যবহারের অনুপাত ২০২৫ সালের ০.৩০০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে দাঁড়ায় ১.২০৩ শতাংশে।
ক্র্যাকপ্লাটুনের অপারেশনস প্রধান প্রকৌশলী আবু মুসায়েব খান জানান, একটি সাধারণ ১২০ কিলোওয়াটের পাবলিক চার্জিং স্টেশন বসাতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ হয় এবং এই বাণিজ্যিক বিনিয়োগের টাকা তুলতে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত বছর বা তারও বেশি সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবহারের হার যদি ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে পৌঁছায়, তবে বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়ার সময় কমে দুই বছরের নিচে নেমে আসতে পারে।
একটি চার্জিং স্টেশনের মোট বিনিয়োগের প্রায় ৭০ শতাংশই সাবস্টেশন, গ্রিড সংযোগ, ক্যাবলিং এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক অবকাঠামো খাতে চলে যায় বলে তিনি জানান। এছাড়া ডিমান্ড চার্জ ও অন্যান্য তদারকি সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ার খরচের কারণে চাহিদা পর্যাপ্ত পরিমাণে না বাড়া পর্যন্ত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো চার্জিং নেটওয়ার্ক প্রসারে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
'এখন চার্জ'-এর ইভি অ্যাক্টিভেশন এক্সিকিউটিভ শাফি আর রহমান জানান, তাদের তেজগাঁও স্টেশনে ২০২৫ সালে যেখানে সপ্তাহে চার থেকে পাঁচটি গাড়ি চার্জ হতো, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দিনে তিন থেকে চারটি গাড়িতে দাঁড়িয়েছে। তাদের অধিকাংশ গ্রাহকই প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির চালক, যার মধ্যে বিওয়াইডি সিলিয়ন ৬, চেরি টিগো ৮ প্রো এবং ওমোডা সি৯-এর পাশাপাশি বিএমডব্লিউ ও মার্সিডিজ-এর বিভিন্ন মডেল রয়েছে।
'এখন চার্জ' বর্তমানে তেজগাঁও, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে চারটি চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনা করছে। শাফি বলেন, আমদানি করা ইভি চার্জারের ওপর সরকারের 'শূন্য শতাংশ' শুল্ক নীতি যন্ত্রপাতির খরচ কমাতে সহায়তা করবে।
প্রতিষ্ঠানটি পঞ্চগড়, খুলনা ও সিলেটে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে এবং ১২০ কিলোওয়াট থেকে ১৮০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন চার্জার ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
গতি মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিক্রয়োত্তর সেবা
চার্জিং অবকাঠামোর বিস্তার এই খাতের চ্যালেঞ্জগুলোর একটি অংশমাত্র। কারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির মালিকদের এমন সব দক্ষ টেকনিশিয়ানও প্রয়োজন, যারা হাই-ভোল্টেজ সিস্টেম, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট এবং সফটওয়্যারচালিত যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করতে অভিজ্ঞ।
সাকিব জানান, বিওয়াইডি-এর বর্তমানে পাঁচটি সার্ভিস সেন্টার এবং দু'টি খুচরা যন্ত্রাংশ (স্পেয়ার পার্টস) পরিবেশক অংশীদার রয়েছে। দেশব্যাপী খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের পাশাপাশি হাই-ভোল্টেজ সিস্টেম, ডায়াগনস্টিকস ও ব্যাটারি বিষয়ে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া আরও নতুন সার্ভিস পয়েন্ট চালু এবং সার্বক্ষণিক পথসেবার টেকনিশিয়ান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে 'দীপাল'-ও তাদের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। তুষার বলেন, ইভি টেকনিশিয়ানদের হাই-ভোল্টেজ সিস্টেম, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট, চার্জিং, ইলেকট্রনিক্স, সফটওয়্যার ডায়াগনস্টিকস এবং নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। তারা এ সংক্রান্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং খুচরা যন্ত্রাংশ ও ডায়াগনস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
'বিওয়াইডি অ্যাটো ৩' গাড়ির মালিক আবু সুফিয়ান অর্ণব জানান, 'অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সহজেই পাওয়া যায় এবং তিনি এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো যান্ত্রিক সমস্যায় পড়েননি।'
তবে, জেলা শহরগুলোতে গিয়ে গাড়ি সার্ভিসিং করার সুযোগ নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত। পাশাপাশি সাধারণ বা প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির তুলনায় ইভি-র খুচরা যন্ত্রাংশের দামও বেশ চড়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার এখনও বড় ঘাটতি
দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার যতই পুরোনো হবে, ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও তা ফেলার উপযুক্ত ব্যবস্থার বিষয়টি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সাকিফ জানান, বিওয়াইডি গাড়ির ব্যাটারিতে আট বছরের ওয়ারেন্টি দেয় এবং এর ব্যাটারির মেয়াদ আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে। গাড়ির 'ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম' ব্যাটারির কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে, আর অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারগুলো ব্যাটারির সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন করতে পারে।
'দীপাল'-ও আট বছরের ব্যাটারি ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। তুষার বলেন, তাদের গাড়ির ব্যাটারির নকশা মডুলার (ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত) হওয়ায় পুরো ব্যাটারি প্যাক পরিবর্তন না করেই নির্দিষ্ট ত্রুটিপূর্ণ অংশ নির্ণয় করে মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। তবে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ইভি ব্যাটারি সংগ্রহ, পুনঃব্যবহার এবং রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার করার জন্য বাংলাদেশে এখনও কোনো সমন্বিত বা পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
সাকিফ বলেন, 'এ ধরনের একটি অবকাঠামো গড়ে তুলতে গাড়িনির্মাতা, পরিবেশক, রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগ বা নির্দিষ্ট সময়ের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়নি।' অর্ণব জানান, 'আট থেকে ১০ বছর পর ব্যাটারি পরিবর্তনের সম্ভাব্য বিপুল খরচ এবং পর্যাপ্ত পাবলিক চার্জিং সুবিধার অভাবই এখনো তাঁর অন্যতম প্রধান চিন্তার কারণ।'
স্থানীয় উৎপাদন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিতে নজর গাড়ি প্রস্তুতকারকদের
অবকাঠামোগত নানা ঘাটতি সত্ত্বেও কোম্পানিগুলো দেশের বাজারে আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাকিফ জানান, বিওয়াইডি বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, যদিও এর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সাশ্রয়ী ও বিলাসবহুল—উভয় ক্যাটাগরির গাড়ি সরবরাহ করা এবং দেশব্যাপী বিক্রয়োত্তর সেবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাজারের শীর্ষস্থানে পৌঁছানো।
অন্যদিকে 'দীপাল'-ও স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদনে আগ্রহী। তবে তুষার বলেন, এ ধরনের বড় বিনিয়োগ নির্ভর করবে বাজারের আকার, সরকারি নীতি, করব্যবস্থা, অবকাঠামো, বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি এবং নির্ভরযোগ্য স্থানীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীর প্রাপ্তিযোগ্যতার ওপর।
দুটি প্রতিষ্ঠানই মনে করে, দেশে ইভির ব্যাপক প্রসারের জন্য শুধু গাড়ি বিক্রিই যথেষ্ট নয়। তুষার এর জন্য কয়েকটি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করেন—যার মধ্যে রয়েছে বাসাবাড়ি ও মহাসড়কে চার্জিং সুবিধা, প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান, বিক্রয়োত্তর সেবা, সহজ ঋণসুবিধা, বীমা, গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী সরকারি নীতিগত সহায়তা।
পাশাপাশি সাকিফ পাবলিক চার্জিং ব্যবস্থা, চার্জিং স্টেশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি রিসাইক্লিং, স্মার্ট সিটি উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক ও গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভূক্ত করে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
বড় আকর্ষণ কম পরিচালন খরচ
গাড়ি ব্যবহারকারীদের জন্য পরিচালন খরচ কম হওয়াই মূলত বৈদ্যুতিক গাড়িতে (ইভি) যাওয়ার একটি বড় উৎসাহ বা প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
প্রতিদিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার গাড়ি চালান অর্ণব। তিনি জানান, সপ্তাহে সাত দিন ইভি চালাতে তার বিদ্যুৎ খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা যেখানে জ্বালানিচালিত (পেট্রোল/ডিজেল) গাড়ি ব্যবহার করার সময় তার দিনে খরচ হতো প্রায় ৯০০ টাকা।
তবে ঢাকার বাইরে সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য পাবলিক চার্জিং সুবিধার সংকট রয়েছে, যা দূরপাল্লার ভ্রমণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
দেশে বৈদ্যুতিক এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়লেও, এর ব্যাপক প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সহায়তামূলক সেবা তৈরির প্রাথমিক ধাপে রয়েছে বাংলাদেশ। চার্জিং স্টেশনগুলোর ব্যবহারের হার এখনো বেশ কম এবং এই খাতের মূল নেটওয়ার্ক ও সুবিধাসমূহ প্রধান প্রধান শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
তুষার জানান, 'দেশে ব্যাপকভাবে বৈত্যুতিক গাড়ির প্রসার কেবল বিপুল পরিমাণ গাড়ি আমদানির ওপর নির্ভর করে না, বরং এর পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপরও নির্ভর করে।
