এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনের মধ্যে ফের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাদের কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষায় স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ৪৯তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'বছরের পর বছর পরীক্ষার জন্য অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে যারা এসএসসিতে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে ফেল করবে, তাদের ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুনরায় পরীক্ষায়ও পাস করতে না পারলে তাদের কারিগরি বা ভোকেশনাল শিক্ষায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।'
এদিকে, অনুষ্ঠানে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। শিক্ষার্থীরাও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদানের জন্য শিক্ষকদেরও প্রযুক্তি বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'শ্রেণিকক্ষের পেছনের বেঞ্চে বসে থাকা কিংবা প্রশ্ন করতে সাহস না পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও প্রশ্ন করার সুযোগ করে দিতে হবে। এটি শিক্ষকদের দায়িত্ব।'
শিক্ষা ও শিক্ষকদের উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'এ লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।'
আগামীর বাংলাদেশ গড়তে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৬১৩ কর্মকর্তা আট দিনব্যাপী এ ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. সরদার মো. কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হক।
পরে শিক্ষামন্ত্রী '১০০টি বিদ্যালয়ে খান একাডেমি, বাংলাদেশ'-এর শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে বগুড়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজারের নতুন ১০০টি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পরে তিনি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।
