নারায়ণগঞ্জে ইটভাটা-মাটিকাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে ইটভাটা ও মাটিকাটা নিয়ে আধিপত্যের লড়াইয়ের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ১টায় ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানায়, বক্তাবলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরে অবৈধ মাটি কাঁটা এবং ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ ছিল দুইপক্ষের। এর একপক্ষে রয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সামেদ আলী।
অপরপক্ষে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি খবির মিয়া।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব ইটভাটা ও মাটিকাটা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর হাতে। গণঅভ্যুত্থানের পর এসব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে হালিম আজাদ ও খবির মিয়ার লোকজন।
সম্প্রতি নজরুল প্রধানের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে এলাকায় ফিরে আসেন শওকত আলীর ঘনিষ্ঠজন সামেদ আলী। এলাকায় ফিরেই ইটভাটা ও মাটিকাটা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
শনিবার দুপুরে হালিম আজাদ ও খবির মিয়া দলবল নিয়ে সামেদ আলীর এলাকা আকবরনগরে মহড়া দিতে যায়। এসময় নজরুল প্রধান ও সামেদ আলীর লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ হৃদয় বলেন, 'আমি বাসা থেকে বের হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং হালিম আজাদ তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে আমাকে গুলি করে। পরে আশেপাশের লোকজন আমাকে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে।'
সংঘর্ষের বিষয়ে নজরুল প্রধান ও হালিম আজাদ উভয়ের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি।
তবে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, 'আমি শুনতে পেরেছি নজরুল প্রধান একজায়গায় প্রোগ্রাম করছিলেন। সেখানে হালিম আজাদ দলবল নিয়ে গেছেন, তার সাথে নাকি আওয়ামী লীগের নেতাও উপস্থিত ছিলেন। এনিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমি নজরুলকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু সে আমার ফোন ধরেনি। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছি।'
বক্তাবলীতে একের পর এক সংঘাতের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমরা এবার ছাড় দেব না। এর আগে এনসিপির সঙ্গে একটা ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঘটনায় মামলাও হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন তাদের মতো করে ব্যবস্থা নেবে। আজকের ঘটনায় আমরা তদন্ত করব। যে দোষী তার বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে মাটি কাঁটা নিয়ে প্রতিবাদ করায় জেলা এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে বিএনপি নেতা হালিম আজাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। সেই ঘটনার ১২ দিনের মাথায় ফের সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামিম হোসেন বলেন, 'ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
