শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে শুনানি ১ নভেম্বর
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবারে হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল আজ বুধবার (৭ অক্টোবর)। তবে আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালে আরও সময় চান আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন কৌঁসুলি আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় আজ বুধবার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ের শুনানির নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। এতে প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায়, শুনানির জন্য আগামী ১ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামি পলাতক। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর পাশাপাশি রাষ্ট্রের খরচে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করে প্রসিকিউশন।
মামলায় গ্রেফতার ১১ আসামিকে আজ সকালে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, আব্দুর রাজ্জাক, দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যরা হলেন— তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে, পলাতকদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের মহাসমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে পাঁচ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।
