আখতারুজ্জামান ভুক্তভোগী-নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের উদ্দেশে দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আপনি এখন আর শুধু জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন। আপনি সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন।"
রোববার (৪ অক্টোবর) মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আখতারুজ্জামানের মতো একজন বিশিষ্ট নাগরিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছে তাকে অপমান করার জন্য। মাথায় হেলমেট পরানো হয়েছে তাকে অপমান করার জন্য। তার বুকে জ্যাকেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই, ধিক্কার জানাই।"
মামলা হওয়ার পর আখতারুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "মামলা হওয়ার পর আমি তাকে ফোন করেছিলাম, আমরা অ্যান্টিসিপেটরি বেল নেব কি না। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে আমাকে বলেছিলেন, 'আমি অন্যায় করিনি, কাজেই আমি আত্মসমর্পণ করব না।'"
তিনি আরও বলেন, "আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, 'আমি চাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হোক। আমি চাই, প্রতিবাদের কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এটা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ দেখুক।'"
ডিবি সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করতে যাওয়ার পর হাতকড়া না পরানোয় আখতারুজ্জামান নিজেই হাতকড়া পরানোর অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান।
প্রবাসীদের পক্ষে আখতারুজ্জামানের কথা বলার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, "তিনি যে প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলেছেন, এটাকে হালকাভাবে নেব না। সরকারকে সাবধান করে দিচ্ছি—পারেন না, মুরোদ নাই, একটা মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেন না। সেখানে রাতের অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হলো, তার সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো।"
তিনি অভিযোগ করেন, "কারা এটা করল, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ল। সেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে-আবডালে থেকে, পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।"
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, "জনগণের চোখে ধুলা দেওয়ার জন্য একজনকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করিয়েছেন। কিন্তু এই দুষ্কৃতকারীকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করেননি, এখনো তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনেননি। আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "জনগণকে বোকা ভাববেন না, অন্ধ ভাববেন না। আপনাদেরও যদি প্রত্যেকের দুটি করে চোখ থাকে, তাহলে জনগণেরও সূর্যের মতো দুটি করে চোখ আছে। পরিষ্কার করে সবকিছু দেখে। আড়াল করতে পারবেন না। এখন আড়াল করার জামানা নয়। এখন মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু জনগণের দোরগোড়ায়, হাতে হাতে পৌঁছে যায়।"
