চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তারা।
একই দাবিতে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরাও।
কর্মসূচিতে সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ বলেন, 'আমাদের দাবি একটাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ধারণ করা। এখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। একটা অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আমরা মানসিকভাবে চাপে আছি, শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি না।'
তিনি বলেন, 'সরকারের কাছে আকুল আবেদন, বর্তমান সরকারের মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের এ চলমান সমস্যার সমাধান করা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি রক্ষা করা।'
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়োতোষ চক্রবর্তী বলেন, 'আমাদের দাবি একটাই, অধ্যাপক সায়েম স্যারকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। সম্মানিত শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ড. সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।'
রোববারও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সকাল ১০টা থেকে চুয়েটের প্রধান ফটকে 'কমপ্লিট শাটডাউন' ও কঠোর অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে প্রতীকী 'প্রশ্নযাত্রা'র আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা '৫৬?' লেখা কাগজ হাতে নিয়ে অংশ নেন। দুপুর ২টা থেকে ক্যাম্পাসে পথনাট্য ও '৫৬ কর্নার' করার কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, অধ্যাপক সায়েম উপাচার্য থাকাকালে ৫৬ দিনে ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া '৫৬ কর্নারে' একটি স্মৃতি বোর্ড রাখা হবে। সেখানে অধ্যাপক সায়েমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্মৃতি লিখে রাখার পাশাপাশি তার সঙ্গে তোলা ছবি পিন করে দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই রাতেই এর প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করেন এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এর মধ্যে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে না এসে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই দিন জরুরি সভায় চুয়েট শিক্ষক সমিতি পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। পরে কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতিও বিবৃতি দিয়ে ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানায়।
