আফতাবনগর-বনশ্রী পদচারী সেতু উদ্বোধন, ব্যয় ১৩.২৯ কোটি টাকা
রাজধানীর বনশ্রী ও আফতাবনগরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া রামপুরা (বেগুনবাড়ী) খালের ওপর নির্মিত ৪২ মিটার দীর্ঘ পদচারী সেতুটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আফতাবনগরে পদচারী সেতুটি উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
সেতুটি নির্মাণে ডিএনসিসির ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ডেমরাগামী রামপুরা-বনশ্রী সড়কের ফরাজী হাসপাতালের পাশে নির্মিত সেতুটির প্রস্থ ৩ দশমিক ৮০ মিটার।
স্টিলের কাঠামোর ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব ও টাইলস বসিয়ে সেতুটিতে হাঁটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতদিন এই এলাকার বাসিন্দাদের খাল পারাপারে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, 'আফতাবনগর ও বনশ্রী এলাকার মানুষের যোগাযোগ সহজ করা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং যানজট কমাতে তিনটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আফতাবনগর-বনশ্রী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর ও স্কুল-কলেজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য তিনটি ব্রিজ নির্মাণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন তিনটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।'
প্রশাসক জানান, অন্য দুটি সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে জাহাজে আনার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থানীয় মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দ্বিতীয় স্টিল সেতুটির নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয় এবং দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আজ এই ব্রিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।'
সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণে এলাকাবাসীকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'খালে যাতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা হয়, সেদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের খেয়াল রাখতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ডিএনসিসি খালটি পরিষ্কার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। খালটি পরিষ্কার, সংস্কার ও যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এলাকাটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।'
এ সময় তিনি ডিএনসিসির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার পাশাপাশি নিয়মিত কর পরিশোধের জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, 'আজ ২ নম্বর স্টিল ফুটব্রিজ উদ্বোধন করা হলো। বাকি দুটি ব্রিজের কাজও দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দক্ষতার সঙ্গে ফুটব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। মূল সড়কে যানজট কমানো এবং এমআরটি প্রকল্পের কাজ চলাকালে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই সেতুর পাশে আরও দুটি স্থায়ী সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এসব সেতু দিয়ে ভারী যানবাহনও চলাচল করতে পারবে।'
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়েরুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন কবির, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সোসাইটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
