সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা: নতুন ৪ প্রকল্পের উদ্যোগ, বাস্তবায়নাধীন ৩
দেশের সব জেলাকে পর্যায়ক্রমে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে রেলপথ সম্প্রসারণে আরও চারটি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য দেন। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
রেলপথ মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে রেলপথের মোট রুটের দৈর্ঘ্য ৩৪২৮.০৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে মিটার গেজ ১৫৯১.৪৩ কিলোমিটার, ব্রডগেজ ১০৬৬.৬০ কিলোমিটার এবং ডুয়েল গেজ ৭৭০.০৬ কিলোমিটার।
ট্র্যাকের মোট দৈর্ঘ্য ৪৮২৬.০৯৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে মিটার গেজ ২৩০৭.৩৮৩ কিলোমিটার, ব্রডগেজ ১৪৩৪.১৯ কিলোমিটার এবং ডুয়েল গেজ ১০৮৪.৫২৬ কিলোমিটার।
তিনি বলেন, 'সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এগুলো হলো—মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ এবং শেরপুর ও রৌমারী রেলওয়ে কানেক্টিভিটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।
এ ছাড়া নাভারণ থেকে সাতক্ষীরা হয়ে ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রেলপথ সম্প্রসারণে আরও চারটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, নেত্রকোনার ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এবং ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দেশব্যাপী সব জেলায় রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে।
