ইউসিবির ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার: সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ভিশন ট্রেডিং নামে একটি শেল কোম্পানির মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম এ পরোয়ানা জারি করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন টিবিএসকে বলেন, মামলাটিতে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল ও অভিযোগ গঠন হয়েছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এম এ সবুর কিছুদিন আগে মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি—এমন কারণ দেখিয়ে উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গতকালের ধার্য তারিখে এম এ সবুরের আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি হাজির না হয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন। দুদকের পক্ষ থেকে ওই আবেদনের বিরোধিতা করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইউসিবির নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পর ওই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের এ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১১ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে মামলার তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে মামলাটিতে আরও দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
