জ্বালানি সংকট: রাজধানীতে ১১-দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ, তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে ১১-দলীয় ঐক্য আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) টানা তিন মাসব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
একই সঙ্গে নভেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করে চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। এতে সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
ঢাকায় জোটের নেতা-কর্মীরা পল্টনের জিরো পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে সচিবালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ ১ নম্বর গেটের কাছে তাদের বাধা দেয়।
সচিবালয়ের বাইরে সরকারের কোনো প্রতিনিধির জন্য প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পরও কেউ না আসায় দাবি-দাওয়া জমা না দিয়েই কর্মসূচি শেষ করে জোট।
জোটের ১০ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নেই সেখানে গ্যাস বিল আদায় স্থগিত, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, গ্যাস চুরি ও সিস্টেম লস রোধে ব্যবস্থা, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তিন মাসব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ এবং ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া-ঢাকা লংমার্চ। এছাড়া ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে রেলযাত্রা এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দাম বাড়ানোর অজুহাত তৈরি করতে সরকার কৃত্রিম গ্যাস সংকট সৃষ্টি করেছে।
তিনি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, এলপিজির সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং 'ভূতুড়ে' বিদ্যুৎ বিল বন্ধের দাবি জানান।
চট্টগ্রামে স্মারকলিপি
চট্টগ্রামে জোটের নেতা-কর্মীরা লালদীঘি ময়দানে সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও 'ভুতুড়ে বিল' প্রত্যাহার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের গেজেট প্রকাশসহ জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমান খান।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, 'চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকটে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানায়। হঠাৎ করে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, সরকারকে তার জবাব দিতে হবে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং 'ভুতুড়ে বিল' আদায় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
অনেক গ্রাহক প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল পাচ্ছেন দাবি করে এসব অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, 'নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিও মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট, সিন্ডিকেট বা অবৈধ মজুতদারির মাধ্যমে কেউ মূল্য বাড়াচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।'
তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ গেজেট দ্রুত প্রকাশ এবং তাদের পরিবারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
