গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে: জামায়াত আমির
গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে ইচ্ছাকৃতভাবে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তার দাবি, মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিক হিসেবে উপস্থাপন করতেই এ সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'দাম বাড়ানোর পর যদি সংকট দূর করা সম্ভব হয়, তাহলে দাম না বাড়িয়েই কেন সেই সংকটের সমাধান করা হয় না? এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।'
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দল আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো একক 'মাস্টারমাইন্ড' নেই। 'এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হাজার হাজার নির্যাতিত মানুষ। আন্দোলনের কৃতিত্ব পুরো জাতির, আর নেতৃত্বের কৃতিত্ব ছাত্র-তরুণ সমাজের। এ কৃতিত্ব নিয়ে টানাটানি করা উচিত নয়।'
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, গুম, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, 'শহিদরা কোনো দলের সম্পদ নন, তারা জাতির সম্পদ। তাদের নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না।'
এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনে আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শহিদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তার অনেকগুলোর বাস্তবায়নে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বদলে তাদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
আন্দোলনের ঘোষণা
জামায়াতের আমির বলেন, 'যেখানেই জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, অন্যায়-অবিচার ও দমন-পীড়ন হবে, সেখানেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বাংলার মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে অতীতের মতোই তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও জনগণের অধিকারভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।'
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, 'বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। আপনার চারপাশের লোকজন থেকেই আপনার বিপদ, আমাদের কাছ থেকে কোনো বিপদ নেই। আমরা বিদেশি প্রভাবমুক্ত একটি বাংলাদেশ চাই বলেই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। নিরাপদ দেশ গড়তে প্রয়োজন হলে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।'
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, 'আজ মানুষের একটাই দাবি—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় পাঁচ বছর নয়, পাঁচ মাসের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটানো হবে।'
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, 'ক্ষমতায় থাকতে হলে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের মালিকানা কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এ দেশের জনগণের। এখন লড়াই শহিদদের বিচার, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। জনগণকে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে।'
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, '৫ আগস্ট মানেই মুক্তি ও গণশক্তির উত্থান। জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনকে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে।'
