স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই: ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আজ সোমবার (৩ আগস্ট) জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে সরকার থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা তারা পাননি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সচিব বলেন, 'রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ বা তফসিল এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ভোটার তালিকা পাঠানোর জন্য আমরা সংসদ সচিবালয়কে অনুরোধ করেছি। ভোটার তালিকা পাওয়ার পর আমরা নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল নিয়ে আলোচনা করব।'
গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বাধ্যতামূলক। সেই বিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন গত ২৮ জুলাই ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করে।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সেই শূন্য পদ পূরণে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে সরকার থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের কাছে আসেনি।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন আগে গত ৩১ জুলাইকে শেষ সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছিল।
তিনি বলেন, 'স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা পরিবর্তনও হতে পারে, আবার অপরিবর্তিতও থাকতে পারে।'
নির্বাচন কমিশনের সচিব আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের জন্য কমিশন একটি প্রস্তাবমালা প্রস্তুত করেছে। বিবেচনার জন্য সেই প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।
অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সাধারণত তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ দিনের সময় প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা ও মুদ্রণের জন্য আরও প্রায় দেড় মাস সময় লাগে। অর্থাৎ, একটি নির্বাচন আয়োজনের আগে নির্বাচন কমিশনের সাধারণভাবে প্রায় তিন মাসের প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, 'স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার সময় হিসেবে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, এমনকি ডিসেম্বর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য নেই। তাই এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।'
আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার জানা মতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। তবে তিনি যোগ করেন, 'তা সত্ত্বেও আমাদের প্রস্তুতি কোনো ধরনের ধীরগতি ছাড়াই চলমান রয়েছে।'
আখতার আহমেদ জানান, নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দল, যার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও রয়েছে, ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ১৩টি রাজনৈতিক দল নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে। অন্যদিকে, আটটি দল এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতি বছরের আগের বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে হয়।
তবে চলতি বছর ৩১ জুলাই শুক্রবার হওয়ায় নির্বাচন কমিশন সময়সীমা বাড়িয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করে বলে জানান আখতার আহমেদ।
বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি। তবে একটি রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগের নিবন্ধন এখনো স্থগিত রয়েছে।
