কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচনার বিষয়।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় এলেও দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত চমক হিসেবে নতুন কোনো মুখও আসতে পারে বলে জল্পনা চলছে।
আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
তবে তাদের কাউকেই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়নি বিএনপি। দলটি সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মুখ খুলছে না।
এ কারণে এমন ধারণাও জোরালো হয়েছে যে, অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিকের পরিবর্তে শেষ পর্যন্ত দলটি চমক হিসেবে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিতে পারে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার কয়েকটি গণমাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করা একজন শীর্ষ আমলার নামও আলোচনায় এসেছে। তবে সংবিধান ও বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের কারণে তার প্রার্থী হওয়া কঠিন হতে পারে।
সংবিধানের ৪৮(৪)(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
অন্যদিকে, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, অবসরের পর চুক্তিভিত্তিকভাবে প্রজাতন্ত্রের চাকরি বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ বা বাতিল হওয়ার পর তিন বছর পার না হওয়া পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
একইভাবে, এ ধরনের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও তিন বছরের অপেক্ষার বিধান প্রযোজ্য।
ফলে আলোচনায় থাকা ওই আমলা যদি এখনো চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকেন, অথবা সেই নিয়োগ শেষ হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হয়ে থাকে, তাহলে বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য যোগ্য হবেন না।
এখন পর্যন্ত বিএনপি তাদের রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ফলে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রপতি যেভাবে নির্বাচিত হন
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা।
সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, তার বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
