রাষ্ট্রপতি কি পদত্যাগ করছেন?
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন উঠেছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি শিগগিরই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি অনেক আগেই উঠেছিল। ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়।
এমনকি বছরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের জোরালো দাবি ওঠে। তবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও আলোচনা চলছে।
এর আগে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আগে দায়িত্ব নেওয়া শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারীদের মধ্যে বর্তমানে একমাত্র তিনিই পদে রয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্র আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ঘেরাও করে তার পদত্যাগ দাবি করেন।
তবে পরে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সে সময় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবির বিরোধিতা করেছিল।
পরে কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ওই সময়ে সশস্ত্র বাহিনী তার পাশে ছিল।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই কথোপকথনের বিষয়ে জানতে পারে। এরপর রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, কথিত ওই ফোনালাপই রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের একমাত্র কারণ নয়। বিষয়টি 'আরও জটিল' বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, সম্প্রতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
গত ১০ জুলাই রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে, ধারণা করা হচ্ছে, দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা দলকে পুনর্গঠনের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব তৎপরতা কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারিতে রেখেছে।
গত ১৭ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও কবে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বা তার উত্তরসূরি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন বলেও জানান।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। আর সরকার তার পদত্যাগ চাইলে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
