প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অপসারণ হচ্ছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বর্জ্য, একই স্থানে হবে বৃক্ষরোপণ
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ শনিবার সকালে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এই কথা জানান।
তিনি জানান, কেবল সাময়িকভাবে বর্জ্য অপসারণ নয়, ভবিষ্যতে কেউ যেন সড়কের পাশে আর ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য সেখানে বেড়া (ফেন্সিং) দিয়ে নিমগাছের চারা রোপণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, 'আমিনবাজারের পর থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত এই জায়গাটি যে ময়লার ভাগাড়, আপনারা দীর্ঘদিন ধরে তা দেখছেন। এটি পরিষ্কার করার কোনো অভিভাবক ছিল না। জায়গাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কিংবা সাভার পৌরসভা—কারও অধীনে না পড়ায় যে যার মতো এখানে ময়লা ফেলে যেত। এটি প্রতিরোধও কেউ করত না এবং পরিষ্কারও কেউ করত না।'
তিনি জানান, চার দিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সড়ক দিয়ে সিঙ্গাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার সময় বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথ সভার মাধ্যমে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার রাস্তার ময়লা পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্জ্য অপসারণের পর সড়কের ওই অংশে ১৫ ফুট বালু ফেলে নেটিং করে ব্যারিকেড বা বেড়া দেওয়া হবে এবং সেখানে নিমগাছের চারা রোপণ করা হবে।
বিগত সরকারের মতো দেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানানোর ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দেবেন না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের এই উদ্যোগকে সবাই সহযোগিতা করুন। আমরা "ক্লিন বাংলাদেশ, গ্রিন বাংলাদেশ" করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, সেখানে আগের সরকারের মতো বলব না যে বাংলাদেশকে আমরা সিঙ্গাপুর বানাব, বাংলাদেশকে আমরা কানাডা বানাব। এটি বানাতে পারব না। তবে বাংলাদেশকে একটি বসবাসযোগ্য রাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু করার প্রয়োজন, আমরা করব।'
সাভার পৌরসভার বর্জ্য ফেলার জন্য রাস্তার উল্টো দিকে একটি ল্যান্ডফিল বা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে সেখানে ফেলার অনুরোধ জানান।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে সাভারের স্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'হ্যালো সাভার' আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে সাভারের ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সাভার পৌরসভায় প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টন বর্জ্য জমা হলেও তা ধ্বংস বা পুনর্ব্যবহারের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।
সাইফুল ইসলাম জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আগে ৯ শতাংশ জমি কেনা হলেও সেটি আবাসিক এলাকায় হওয়ায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে পৌরসভার সামনের স্থানকে প্রাথমিক বর্জ্য স্থানান্তরকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার দুর্গন্ধের কারণে কার্যালয়ে ঢোকাও কঠিন হয়ে পড়ে।
একই সঙ্গে বলিয়ারপুর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলার স্থানের বিপরীত পাশের পুরো এলাকা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমতে জমতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল হয়ে যায়। এতে সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল এবং ওই পথে চলাচলকারী মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতো।
বর্জ্য অপসারণের অগ্রগতি জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের ১৫০ জন শ্রমিক দুই দিন কাজ করে ময়লাগুলোকে কেবল একটি নির্দিষ্ট লেভেলে নিয়ে এসেছে এবং সেখানে বালু ফেলেছে। পুরো ময়লা সরাতে প্রায় এক মাস সময় লেগে যাবে।'
ইউএনও সাইফুল ইসলাম জানান, সাভারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি বিশেষ মহলের অপতৎপরতা ও অসচেতনতা। কিছু লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করে টাকা নিলেও নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় তারা রাতের আঁধারে বা ভোরে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রেখে যায়। এ অপরাধে ইতিমধ্যে অনেককে আটক এবং ময়লা বহনের ভ্যান ও গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে সাভার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা (বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা) ব্যয় হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বাড়াতে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের কাজটি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পেশাদার প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। পেশাদার প্রতিষ্ঠান সরাসরি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে ফেলবে। এই নতুন পদ্ধতিটি চলতি জুলাই মাস থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে জানান তিনি।
