বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র করবে সরকার: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী
বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে সরকার দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা সম্বলিত মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, 'হাওর এলাকায় ধান কাটার সময় কৃষক এবং বর্ষাকালে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা প্রায়ই বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে বজ্রপাতের জন্য বিশেষ মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্র নিরোধক দণ্ড ও সতর্কীকরণ অ্যালার্ম থাকবে, যাতে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষক ও জেলেরা নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারেন।'
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য আরিফা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
এসময় মন্ত্রী বলেন, 'বজ্রপাত এখন দেশে একটি ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সরকার ইতোমধ্যে একে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।'
তিনি জানান, দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় 'বজ্রপাতের ফলে প্রাণহানি রোধে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ', 'কৃষক ছাউনি' এবং 'বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন' শীর্ষক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'এসব প্রকল্পের আওতায় চলনবিল অঞ্চলের বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জসহ হাওর এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।'
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, 'সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও হাওর এলাকায় বজ্রপাতের প্রকোপ বেড়েছে। তাই চলনবিলসহ দেশের সব উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।'
তিনি জানান, বজ্রপাত বিষয়ে প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়েও সরকার ব্যবস্থা জোরদার করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতে গবাদিপশু মারা গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
