‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুতে ইউএসটিআরের শুনানিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ
পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতা এবং মার্কিন বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে বাংলাদেশের ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তা নিয়ে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় শুনানিতে অংশ নিচ্ছে না ঢাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোববার (৫ জুলাই) টিবিএসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তিতর্ক তুলে ধরতে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার কিংবা বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে কোনো রেজিস্ট্রেশন বা সাবমিশন করা হয়নি। তবে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি সুরাহার জন্য ইউএসটিআরকে (ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টিটিভ) প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের 'সেকশন ৩০১' ধারায় তদন্ত শেষে গত জুনে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করে ইউএসটিআর। মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানির আয়োজন করেছে সংস্থাটি। সেখানে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বেসরকারি খাত নিজ নিজ দেশের পক্ষে যুক্তি-প্রমাণ তুলে ধরে বাড়তি শুল্ক আরোপ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার সুযোগ পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, "আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বিভিন্ন দেশের সরকার সরাসরি শুনানিতে অংশ নিচ্ছে না; বরং দেশগুলোর বেসরকারি খাত এতে অংশ নিচ্ছে। ব্যয়বহুল হওয়ায় আমাদের বেসরকারি খাত এতে অংশ নিতে আগ্রহী নয়।"
তবে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম টিবিএসকে বলেন, সরকার থেকে তাদের শুনানিতে অংশ নেওয়ার কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের কাছে মতামত চেয়েছিল এবং তারা লিখিতভাবে মতামত জমা দিয়েছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারক টিবিএসকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, শুনানিতে অংশ নিলেও তাতে বিশেষ লাভ হবে না। ইউএসটিআরের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর যে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করেছিলেন, সেকশন ৩০১-এর আওতায় তদন্ত শেষে দেশগুলোর ওপর সেই হারেই শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ১৯ শতাংশে নেমে আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল করলে ভিন্ন আইনের আওতায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন। এরপর সেকশন ৩০১-এর আওতায় তদন্ত শুরু হয়।
ওই নীতিনির্ধারক বলেন, "সেকশন ৩০১-এর আওতায় তদন্ত শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই তা ১৯ শতাংশের বেশি হবে না। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও তাদের সঙ্গে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী শুল্ক আরোপ কার্যকর করবে যুক্তরাষ্ট্র।"
তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক একজন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, ২০১৮ সালে নকল পণ্য রপ্তানির অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের তদন্ত শুরু করেছিল। তখন বাংলাদেশ যুক্তিতর্ক তুলে ধরে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি আর এগোয়নি।
তিনি বলেন, ইউএসটিআরের যেসব কর্মকর্তা তদন্ত করবেন, তারা নেগোসিয়েশন গ্রুপের সুপারিশ নাও মানতে পারেন। তাই বাংলাদেশ শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলে ভালো হতো। শুনানিতে অংশ না নেওয়ায় পুরো বিষয়টিই যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলো।
