বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
চীনের বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের 'গ্রেট হল অব দ্য পিপল'-এ এই বৈঠক আয়োজিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, স্থানীয় সময় সকাল ১০:৪০ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠকটি প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীন বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে সাহায্য করতে পারে।
সফরে থাকা সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা চীনকে আমাদের সতেজ আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জলজ পণ্য, কাঁচা চামড়া, পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান শিল্প কারখানাগুলোর আধুনিকায়নে চীনের সহায়তা প্রয়োজন।'
উল্লেখ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপকে যুক্ত করতে শি জিনপিংয়ের নেওয়া ফ্ল্যাগশিপ অবকাঠামো ও উন্নয়ন কৌশল 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ'-এ ২০১৬ সালে যোগ দেয় বাংলাদেশ।
চীনের প্রতিশ্রুতি
চীন সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি উন্নত মানের পণ্য আমদানি করতে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখানে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে প্রস্তুত। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো নতুন নতুন শিল্প খাতেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় চীন।
বৈঠকের আগে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরবেন।'
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঋণ ও বিনিয়োগের চিত্র
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চীনের কাছে বর্তমানে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ৬.২ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বেইজিংভিত্তিক এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক আরও ২.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। এর বিপরীতে, প্রতিবেশী ভারতের কাছে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ মাত্র ১.৬ বিলিয়ন ডলার।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও ৭.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার প্রায় অর্ধেকই গেছে জ্বালানি খাতে।
তবে বেইজিংভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চিম লি জানান, চীন বর্তমানে বড় ধরনের অর্থায়নের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচি
এর আগে বৃহস্পতিবার 'গ্রেট হল অব দ্য পিপল'-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে। এ ছাড়া দুই নেতার উপস্থিতিতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দেশটির বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিউগলে শ্রদ্ধার সুর বাজানো হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
বিকেলে বেইজিং ছাড়ার আগে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) জাদুঘর পরিদর্শনেরও কথা রয়েছে তার। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চার দিনের চীন সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষে তিনি চীনে পৌঁছান।
