বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে, প্রয়োজনীয় কাগজ পাঠানো হয়েছে ৩ দিনে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।
আজ শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে ইউএই ফেডারেল পুলিশ কর্তৃক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হলেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৪৪ পৃষ্ঠার প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।'
এর আগে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ফেডারেল এনসিবি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশের এনসিবিকে জানায় যে, বাংলাদেশের অনুরোধে ইস্যুকৃত রেড নোটিশের ভিত্তিতে তারা বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানায়।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, '২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে তারা (আওয়ামী লীগ) দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে বলে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ সর্বদা তৎপর এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য করে না, বরং এটি একটি 'মাফিয়া দল'। দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। এই অবস্থায় তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'
মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অপরাধপ্রবণতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকা রাতারাতি অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নয়। তবে অধিক অপরাধপ্রবণ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গাজীপুরের সাবেক কমিশনার ড. নাজমুল করিম খানের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আইনি ও বিভাগীয় বিধিমালা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তদন্ত করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর এবং ওসির বিরুদ্ধে প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'
মংলার কোস্টগার্ড ও স্থানীয়দের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুদের দমনে কোস্টগার্ড স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী কাজ করছে। চিহ্নিত ডাকাত মিরাজের অনুসারীরা কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালালে কোস্টগার্ড আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা নেয় এবং বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।'
১৫ পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা এবং জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চারটি বিশেষ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের ১৫ জন সদস্যকে এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার, সনদ ও আর্থিক সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় 'শাস্তি ও পুরস্কার' নীতি কার্যকর করেছে। কর্তব্যকাজে আন্তরিকতা ও সততা প্রদর্শনকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি নিষ্ক্রিয়তা, গাফিলতি বা দুর্নীতিতে লিপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।'
পুরস্কারের আওতায় আসা চারটি ঘটনা হলো— জনভোগান্তি লাঘবে ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ, আদাবরে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও সাহসিকতা, আনোয়ারায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার এবং চকরিয়ায় আলোচিত ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলার আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
গত ১০ জুন ভারী বর্ষণের কারণে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের লুপ-২ নামার প্রান্তে সড়কের পানি নিষ্কাশন ড্রেনের মুখে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ডিউটিরত ট্রাফিক কনস্টেবল মো. কামরুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে নিজ হাতে ড্রেন পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। ফলে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলকারী এ প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ট্রাফিক গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের কনস্টেবল মো. কামরুজ্জামানকে 'পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ', অর্থ পুরস্কার এবং প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।
