যেসব দেশ ভালো করছে, আমরা তাদের অনুসরণ করব: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাখাত আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভালো করছে এমন দেশগুলোর কাছ থেকে শিক্ষা নেবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, ''আমরা নকল করব, যারা ভালো করছে। আজকে মর্ডনাইজেশনের সময় যেসব দেশ ভালো করছে তাদের নকল করব।''
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত 'বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাত, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, নীতিগত সংস্কার ও জাতীয় উন্নয়নের দিকনির্দেশনা'- অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ''আমি ডক্টরের সঙ্গে কাজ করেছি—মার্কেটের ভেতরে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি আমার সচিবের সঙ্গেও কাজ করছি, যেখানে '৭২ আওয়ার রুলস অব বিজনেস' অনুসরণ করা জরুরি।''
তিনি বলেন, ''বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এখন নতুন—একটি নবজাতকের মতো; তাই ২৯ দিনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে অতিরিক্ত প্রশ্ন তোলা ঠিক হবে না।''
তিনি আরও বলেন, ''তবে আমরা খুব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তুলব এবং ১৮০ দিনের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।''
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ''আমরা দেখেছি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আজকের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে তাদের অবদান অনেকাংশে আড়ালে রয়ে গেছে। এখন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় একসঙ্গে এগিয়ে আসছে, যদিও নীতিনির্ধারণে কিছু পার্থক্য রয়েছে।''
তিনি বলেন, ''প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে বলেছেন—দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।''
ইউজিসি চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ বলেন, ''ইউজিসি ১০৭৫ বিশ্ববিদ্যালয় ও ৫ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে অউন করে। আমরা কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করতে চাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নয়, অভিভাবক হয়ে। আজকের আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস অব বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছে, বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে করনীতি সংস্কার জরুরি—অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয়কে করমুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ কমানো।''
তিনি বলেন, ''একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি প্রণোদনা, স্টার্টআপ সহায়তা ও এন্ডাউমেন্ট ফান্ড গঠনের মাধ্যমে মেধাবী ও অসচ্ছলদের সহায়তার কথা বলা হয়েছে। ইউজিসিকে আরও কার্যকর ও সহায়ক করতে দ্রুত অনুমোদন, স্বচ্ছ কেপিআই ও র্যাংকিং চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।''
তিনি আরও বলেন, ''পাশাপাশি গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।''
