ভোক্তার ওপর চাপ কমাতে মোবাইল সেবায় কর কমানোর প্রস্তাব মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের
ভোক্তাদের ওপর করের বোঝা কমাতে মোবাইল কল ও ডেটা ব্যবহারের ওপর আরোপিত বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।
অ্যামটব জানিয়েছে, বর্তমান কর কাঠামো খাতটির প্রবৃদ্ধি ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে অ্যামটব তাদের প্রস্তাব তুলে ধরে, যেখানে করব্যবস্থাকে খাতটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অ্যামটবের মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, "বর্তমানে মোবাইল অপারেটররা তাদের মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ কর, ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ হিসেবে পরিশোধ করছে। যেখানে বৈশ্বিক গড় করহার ২২ শতাংশ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২৬ শতাংশ।"
তিনি বলেন, "স্পেকট্রাম নিলামের সময় এই চাপ আরও বাড়ে, যা বিনিয়োগ সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করে।"
তিনি টেলিকম সেবায় আরোপিত ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, যাতে সংযোগ সেবা আরও সাশ্রয়ী হয়।
এছাড়া, সিম ও ই-সিম প্রতিস্থাপনে ৩০০ টাকা ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এটি বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে নতুন ব্যবহারকারী তৈরিতে নিরুৎসাহিত করছে।
অ্যামটব আরও বলেছে, স্পেকট্রাম বরাদ্দের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত। তাদের মতে, একই স্পেকট্রাম ব্যবহার করে সেবা দেওয়ার সময় আবার কর দিতে হওয়ায় এটি দ্বৈত কর আরোপের শামিল।
সংগঠনটি আরও সুপারিশ করেছে, তালিকাভুক্ত টেলিকম কোম্পানির ক্ষেত্রে বর্তমানে ৪০ শতাংশ এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর হার কমিয়ে আঞ্চলিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হোক।
আলোচনায় তামাক খাতের উদ্যোক্তারাও বিদ্যমান ভোক্তা পর্যায়ের করব্যবস্থা নিয়ে তাদের ভিন্নমত তুলে ধরেন।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)-এর পক্ষ থেকে বিদ্যমান অ্যাড-ভ্যালোরেম পদ্ধতির পরিবর্তে নির্দিষ্ট করব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিএটিবির প্রতিনিধি আরাফাত জায়গীরদার বলেন, "বর্তমানে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ মিলিয়ে মোট করহার ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত ওঠে, যা বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। ফলে এখান থেকে ভবিষ্যতে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। তাই বিদ্যমান অ্যাড-ভ্যালোরেম পদ্ধতির পরিবর্তে নির্দিষ্ট করব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর ওপর চাপও কমবে।
জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধিরাও এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
তবে আবুল খায়ের টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা ভিন্নমত দেন। তারা বিদ্যমান কর কাঠামোর আওতায় উচ্চ তিনটি স্তরে সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।
তাদের দাবি, এতে প্রতিবছর অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, তামাক খাত সরকারের রাজস্ব আয়ের একক বৃহত্তম উৎস, যা থেকে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আয় হয়।
বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশে সিগারেটের দাম ও করহার পুনর্বিবেচনা করা হবে।
