দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচি চলছে, ৬ মাসের টিকার মজুদ রাখবে সরকার
হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জিওতকাল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী মোট ১ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন।
সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
এছাড়া, আগামী অর্থবছর থেকে ছয় মাসের টিকার মজুদ রাখার পরিকল্পনাও করছে সরকার।
নারায়ণগঞ্জে টিকাদান কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে ১৫ মাসের চাহিদার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো ধরনের সংকট এড়াতে কমপক্ষে ছয় মাসের টিকার মজুদ রাখা হবে।
২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যু
রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
একই সময়ে সারাদেশে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়, যাদের মধ্যে ১৭৪ জনেরই হাম শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম সংক্রমণে অন্তত ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই উপসর্গ নিয়ে আরও ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষাগারে ৩ হাজার ৬১৭ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে মোট ২৪ হাজার ৭৭৬ জন সন্দেহভাজন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই: মন্ত্রী
বর্তমান হাম পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই বলে গতকাল জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এতটা গুরুতর নয় যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে; বরং সংক্রমণের হার ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের অপুষ্টি শুধু ওষুধ দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মায়েদের সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এটি রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
দুর্নীতিতে 'ভেঙে পড়েছে' স্বাস্থ্যব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, এক সরকারের সময় দুর্নীতি এবং আরেক সরকারের সময় ভুল নীতিগত সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচিতে—দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা 'ভেঙে পড়েছে'।
সিরাজগঞ্জে তিনি বলেন, "১৫ বছরের ব্যাপক দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা দান কর্মসূচিতে ভুল নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এরপর মাত্র এক মাসের মধ্যে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সারাদেশে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।"
আর এক মাসের মধ্যে দেশের আরো ১ কোটি ৭৮ লাখ শিশুকে টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "পুরো দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছি। এরই মধ্যে ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের ৫টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আরও ৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।"
এর আগে ৫ এপ্রিল ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় ১২ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে প্রথম ধাপের টিকদান কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৯ লাখ ৭৭ হাজার শিশুকে লক্ষ্য করে কর্মসূচি চালু করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই ধাপে এখন পর্যন্ত মোট ২১ লাখ ২০ হাজার ৬৩৭ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ বা জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া যাবে না। এছাড়া দ্বিতীয় ডোজ অন্তত চার সপ্তাহের ব্যবধানে দিতে হবে।
