জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু ব্যবসায়ীদের তেল মজুদে কৃত্রিম সংকট: জ্বালানিমন্ত্রী
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক অভিযোগের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, 'দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই'। এসময় মাছুম মোস্তফা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, 'পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। '
তিনি আরও বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে এই কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে মোটরবাইকে ২০০ টাকার ফুয়েল প্রদান বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে 'প্যানিক বায়িং' ও মজুতপ্রবণতার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, 'কৃত্রিম সংকট নিরসনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সারা দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসি কর্তৃক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদকারীদের ধরতে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।'
তিনি জানান, জ্বালানি তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে 'ফুয়েল কার্ড' চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশের এলপিজির বাজার প্রায় ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি আমদানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের 'অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম' থেকে দেশের এলপিজি আমদানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে অবহিত করা হচ্ছে।
