জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের জামিন
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগ থানাধীন এলাকায় আশরাফুল ওরফে ফাহিমকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এই আদেশ দেন।
শিরীন শারমিনের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, "আসামির শারীরিক অবস্থা ও নারী হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আদালত ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।"
এর আগে, জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একইদিন বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাকে ডিবি কার্যালয় থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ৩টা ১০ মিনিটে তাকে এজলাসে তোলা হলে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গতি সঞ্চার হয়। ছাত্র জনতার এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর জন্য গ্রেপ্তার আসামিসহ তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার দমন পীড়ন শুরু করে। গত ১৮ই জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারী কলোনীর ভেতরে নিরস্ত্র ছাত্র জনতার বৈষম্য বিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিল করা কালে শেখ হাসিনার নির্দেশে মামলার এজাহারনামীয় আসামি, পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ও অন্যান্য আসামিরা বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যাযজ্ঞ চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিনে ঘটনাস্থলে বাদী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম শান্তিপূর্ণ নিরস্ত্র আন্দোলনরত অবস্থায় বাম চোখ ভেদ করে চোখের রেটিনার পিছনে, মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন। আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ও নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন বাদীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান এবং ভর্তি করে ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরবর্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে অপারেশন করেন এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। বাদী বাম চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন।
