কেরানীগঞ্জে কারখানায় আগুন: ৩ দিন আগে কাজে ঢোকা শাহিনূরসহ নিঁখোজ ২
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে শাহিনূর আক্তার (৩৫) ও পারভীন আক্তার নামে দুই নারী শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার (৪ এপ্রিল) কদমতলীর ডিপজল গলিতে অবস্থিত কারখানাটিতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শাহিনূর আক্তারের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনী থানায়। স্বামীর সঙ্গে তিনি কেরানীগঞ্জের গোলামবাজার এলাকায় থাকতেন।
শনিবার সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া কারখানার সামনে শাহিনূরের স্বজনদের ভিড় করতে দেখা যায়। এ সময় মুঠোফোনে তার ছবি দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
শাহিনূরের চাচাতো ভাই সাগর হোসেন জানান, অভাব-অনটনের কারণে তিন দিন আগে (১ এপ্রিল) শাহিনূর পুনরায় এই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
এর আগে বছরখানেক ধরে তিনি এখানেই কাজ করতেন। কিন্তু ইসলামপুরে কাপড়ের দোকানে কর্মরত স্বামী রাজু আহমেদের কথায় তিনি সে সময় চাকরি ছেড়ে দেন। তাদের এক ছেলে গ্রামের বাড়িতে থাকে।
সাগর হোসেন বলেন, 'সকালে আমার বোন কাজে এসেছিল। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।'
এ সময় শাহিনূরের আরেক চাচাতো বোন খুকুমনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আমার বোনকে এনে দেন, অন্তত লাশটা হলেও এনে দেন।'
এদিকে, একই কারখানায় কর্মরত পারভীন আক্তারেরও খোঁজ মিলছে না। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে এবং তিনি ছেলের সঙ্গে গোলামবাজারের ওয়াশমিলের গলিতে থাকতেন। প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি এই কারখানায় কাজ করছিলেন। গত ছয় মাস ধরে তার নাতনি মিমও তার সঙ্গে সেখানে কাজ করছিল।
পারভীন আক্তারের ছেলে পেশায় দিনমজুর জাহিদ মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হাতে নিয়ে কারখানার সামনে অপেক্ষা করছিলেন।
তিনি জানান, 'আজ সকালেও মা কাজে এসেছিল। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমার মেয়ে মিম বের হয়ে বাসায় এসে জানায়, কারখানায় আগুন লেগেছে এবং দাদিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
খবর শুনে দৌড়ে এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুন নেভার পর থেকে সব জায়গায় খুঁজছি, কিন্তু মাকে কোথাও পাচ্ছি না।'
কারখানার পাশের এক বাসিন্দা মো. মাসুদ অগ্নিকাণ্ডের পর মৃতদেহ উদ্ধারে সহায়তা করেন।
তিনি বলেন, 'আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখি কয়েকজন বের হয়ে এসেছে। তারা প্রথমে জানিয়েছিল ভেতরে কেউ নেই। কিন্তু আগুন নেভার পর কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সবার মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে, শুধু একজন নারীর চেহারা চেনা যাচ্ছিল। ভেতরে পোড়াস্তূপে আরও মরদেহ থাকতে পারে।'
শনিবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে কারখানাটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
কারখানার গেটের বাইরে উৎসুক জনতার ভিড়। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। তবে আগুনে কারখানার ছাদের টিন ভেঙে পড়ায় ভেতরে তল্লাশি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোড়াস্তূপ সরানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) আনা হচ্ছে।
ভেকু পৌঁছানোর পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভেতরে আরও মৃতদেহ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।
