হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে সংক্রমণ বাড়ছে
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের মতো উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে দুজন, ঢাকায় একজন এবং চট্টগ্রামে একজন মারা গেছে।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. তানজিনা জাহান বলেন, "মঙ্গলবার এই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে এ হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গে ২২ শিশু মারা গেছে।"
রাজশাহীতে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সেখানে হাম নিয়ে ৯৮ শিশু ভর্তি আছে।
রাজশাহীতে হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা সংক্রমণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।"
এদিকে, কক্সবাজার থেকে গুরুতর অবস্থায় আনা ছয় মাসের কম বয়সী এক শিশু মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন জানান, গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হওয়ার পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে ৩২ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তারা শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিকু) চিকিৎসা নিচ্ছে। অন্যদের শিশু বিভাগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আক্রান্ত শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, মহানগর এলাকা ও জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট ৪১টি ঘটনার বিপরীতে ৫০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে আটজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে ছয়জন শহরে চিকিৎসাধীন, একজন মা ও শিশু হাসপাতাল এবং আরেকজন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশে ৬৭৬টি হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে, তবে মৃত্যুর কোনো সরকারি হিসাব নেই।
তবে বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, অনানুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৩ জন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৯ জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, শরীয়তপুরে ২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
