সড়ক দুর্ঘটনা: বছরে আর্থিক ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকা
দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। দুর্ঘটনায় প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে এবং যানবাহন ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে এ ক্ষতি হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা ৫০% কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ রবিবার (২৯ মার্চ) দেশব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের একটি বড় অংশ কর্মক্ষম মানুষ, যার ফলে দেশের উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদের বড় ক্ষতি হয়। আহতদের চিকিৎসা এবং প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়।'
তিনি বলেন, 'এছাড়া যানবাহনের ক্ষতি, ও কোনো কোনো যানবাহনে থাকা অন্যান্য পণ্যের ক্ষতি, আইনি প্রক্রিয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় মিলিয়ে মোট ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিআরটিএ, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন, বুয়েট এআরআই ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই হিসাব তৈরি করে থাকে।'
সড়ক পরিবহন বিভাগ আয়োজিত সভায় উপস্থাপন করার তথ্য বিআরটিএর। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপির ১০.৮৭% ক্ষতি হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী চলতি মূল্যে জিডিপির আকার ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা।
২০২৫ সালের অক্টোবরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এক সেমিনারে ওয়ার্ল্ড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিলো ২১, ৮৮০ কোটি টাকা।
গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে ২০২৫ সালে দেশে ৬৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে সেগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে- মোটরযানের বেপরোয়া গতি, বিপদজ্জনক ওভারটেকিং, সড়ক নির্মাণের ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, মোটরযানের চালকের স্বাস্থ্যগত সমস্যা, কর্মঘণ্টা অনুসরণ না করে একটানা মোটরযান চালানো ও পথচারীর অসচেতনতা।
সূত্র জানায়, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লিডিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করবে বিআরটিএ। এজন্য বিআরটিএর সাংগাঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনা রোধে সব গাড়ি চালককে আবশ্যিকভাবে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের ১০টি মেডিকেল কলেজে এই ডোপ টেস্টের টিম চেয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে চিঠি পাঠাবে সড়ক বিভাগ। এই টিম নিয়মিতভাবে সড়ক, মহাসড়কে গাড়ি চালকদের ডোপ টেস্ট করবে। যাদের টেস্টের ফলাফল নেতিবাচক হবে, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এছাড়া দুর্ঘটনা রোধ করতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী চালকদের দোষসূচক পয়েন্ট কাটার বিষয়টি চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
