গাবতলীতে নেই চিরচেনা ভিড়, যাত্রী সংকটে ফাঁকা যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের চিরচেনা সেই উপচে পড়া ভিড়ের চিত্র ঈদের আগের দিন যেন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। টার্মিনালজুড়ে বিরাজ করছে এক অস্বাভাবিক নীরবতা। নেই যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, নেই টিকিটের জন্য কোনো হুড়োহুড়ি।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত টার্মিনাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাসই পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছে না। গড়ে প্রতিটি বাসে ৭ থেকে ৮টি আসন খালি থাকছে। বড় বড় পরিবহন সংস্থাগুলোর কাউন্টারে কর্মীদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে; যাত্রী না থাকায় কোনো কোনো কাউন্টার বন্ধ করে বসে থাকতেও দেখা গেছে কর্মীদের।
শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার ফজলুর জানান, সকাল থেকে প্রায় ২০টি বাস বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেলেও প্রতিটি বাসেই কয়েকটি করে সিট ফাঁকা ছিল। গড়ে ৮ থেকে ১০টি সিট খালি ছিল।
ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কুষ্টিয়া-মেহেরপুর রুটে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৭৫০ টাকা এবং রংপুরগামী বাসের ভাড়া ৮৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।'
গাবতলী থেকে বিকেল ৩টায় দিনাজপুরের উদ্দেশে একটি গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও যাত্রী সংকটে তা কিছুটা বিলম্বে ছাড়ে। কম্পিউটারে অনলাইন বুকিংয়ের হিসাব দেখিয়ে ফজলুর বলেন, '৩৬ সিটের গাড়ি মাত্র ১৬ সিট বুকিং হয়েছে। এখন অনেকগুলো সিট খালি রেখেই গাড়ি ছাড়তে হবে।'
এদিকে টিকিট পেতে কোনো ভোগান্তি না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। আবিদ হাসান নামের এক যাত্রী বলেন, 'বিকাল ৩টায় এসে যশোরের টিকিট কেটেছি ৯৬০ টাকায়। কোনো ঝামেলা ছাড়াই টিকিট পেয়েছি। আগে ঈদের সময় ৮০০-৮৫০ টাকাতেও যাওয়া যেত, কিন্তু তখন টিকিট পাওয়া কঠিন ছিল।'
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগমুহূর্তে বাসের আসন খালি থাকা এখানে অস্বাভাবিক চিত্র। যাত্রী কম থাকায় বাস মালিকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন বলেও তারা ধারণা করছেন।
