গাজীপুরে দুই মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল, চন্দ্রায় ধীরগতি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল থেকে লাখো মানুষ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। বেতন ও ছুটি পাওয়ার পর সোমবার বিকেল থেকে ঈদযাত্রা শুরু হলেও বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকে মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।
এদিকে, গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকায় থেমে থেমে যানজট ও ধীরগতি দেখা গেছে।
শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোগান্তি কমাতে এবার ধাপে ধাপে কারখানায় ছুটি দেওয়া হচ্ছে। গাজীপুরের ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩টিতে ঈদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার ১০ শতাংশ (৬২টি) এবং মঙ্গলবার ২৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছে। বুধবার সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ হাজার ৪১৪টি কারখানা ছুটি হচ্ছে। বাকি ৮৩৩টি কারখানা বৃহস্পতিবার ছুটি হবে। ফলে আজকের পর মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার যেসব কারখানা ছুটি হয়েছিল, সেসব শ্রমিক বুধবার সকালেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে এসব এলাকায় থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ছাড়া মহাসড়ক ঘেঁষা কারখানাগুলোর সামনে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার কারণেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সফিপুর থেকে চন্দ্রা এবং বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। দুপুরের পর বিপুলসংখ্যক কারখানা ছুটি হওয়ায় বিকেলে এ চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলো যাত্রীপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে শ্রমিকদের আগেই ভাড়া করা শত শত বাস দাঁড়িয়ে থাকায় এবং যাত্রীদের ভিড় জমায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, "মঙ্গলবার থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। আজ দুপুরের পর তা আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে। মহাসড়কের পাশে ভাড়া করা অসংখ্য বাস দাঁড়িয়ে থাকায় কিছুটা জটলা তৈরি হয়েছে। আমরা যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছি।"
