বাংলাদেশ–জাপান ইপিএ-র সুফল পেতে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করতে হবে: ফাহমিদা খাতুন
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জোর দিয়ে বলেছেন, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) থেকে পূর্ণ সুবিধা পেতে আমলাতান্ত্রিক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক বাধাগুলো দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
জাপান দূতাবাসে সিপিডি আয়োজিত 'ইপিএ থেকে সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার' শীর্ষক এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য প্রায়শই বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকে ২০টিরও বেশি লাইসেন্স এবং অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হয় এবং পরিচালনার খরচ বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, 'এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতাগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্যভাবে নিরুৎসাহিত করে এবং বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।'
তিনি আরও বলেন, 'ইপিএ কার্যকর হওয়ার পর বৃহত্তর জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে ব্যবসা নিবন্ধন এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।'
নিয়ন্ত্রণমূলক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ সংকট, পরিবহনে ধীরগতি এবং বন্দরের অদক্ষতাসহ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশে পরিচালিত ব্যবসাগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক জাপানের কঠোর গুণমান এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণের জন্য বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা জাপানি বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য অপরিহার্য হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইপিএ-র অধীনে শুল্ক হ্রাস সরকারের জন্য স্বল্পমেয়াদে রাজস্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই করের আওতা বাড়ানো এবং রাজস্ব সংগ্রহ জোরদার করার জন্য আর্থিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর তিনি জোর দেন।
এই চুক্তির সুবিধা সর্বোচ্চ করতে ফাহমিদা খাতুন একটি ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচির সুপারিশ করেন, যার মধ্যে ডিজিটাল কাস্টমস সিস্টেম, ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিদর্শন এবং দ্রুত পণ্য খালাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি প্রযুক্তি গ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উন্নত মান নিশ্চিতকরণ সনদের মাধ্যমে শিল্প প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করতে এবং বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে জ্বালানি, পরিবহন অবকাঠামো এবং লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশ–জাপান ইপিএ দুই দেশের মধ্যে গভীরতর অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তির সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে বাংলাদেশ কতটা কার্যকরভাবে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারে, আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে পারে এবং বিনিয়োগবান্ধব ও দক্ষ ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করতে পারে তার ওপর।
