‘১৫ বছর ভোট দিতে পারিনি, পা ভাঙলেও এবার এসেছি’: ক্রাচে ভর করে ভোটকেন্দ্রে আসা এরশাদ
বিগত তিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ এরশাদ (৪২)। চলতি মাসের শুরুতে দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পান তিনি। ব্যান্ডেজ করা পা নিয়েই আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন তিনি।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের নগরীর খুলশী ওমরগণি এমইএস কলেজ কেন্দ্রে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রিকশায় করে ভোটকেন্দ্রের সামনে পৌঁছান খুলশী থানাধীন কুসুমবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এরশাদ। পরে ক্রাচে ভর করে কয়েক শ গজ হেঁটে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
এরশাদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'গত ১৫ বছর ভোট দিতে পারিনি। তাই পা ভাঙলেও এবার ভোট দিতে এসেছি। নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে ভালো লাগছে।'
ভোট দিতে পেরে আনন্দিত আখিরা
ওমরগণি এমইএস কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন দুই প্রতিবেশী গরীবুল্লাশাহ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা ফারহানা আক্তার (২৩) ও সোমা আক্তার (৩১)।
প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে খুশি পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা। টিবিএসকে তিনি বলেন, 'প্রথম ভোট দিতে পেরে আনন্দিত। আশা করি, সুষ্ঠু ভোট হবে। যারা সরকারে আসবেন তারা জনগণের জন্য কাজ করবেন। দেশের উন্নয়ন হবে।'
ফারহানার সঙ্গে একমত জানান গৃহিণী সোমা আক্তার।
২০০৭ সালে ভোটার হন একই এলাকার বাসিন্দা আকলিমা আক্তার আখি (৩৯)। তবে গত তিন নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তিনি। বহু বছর পর এবার ভোট দেন এই গৃহিণী। টিবিএসকে আখি বলেন, 'ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। নির্ভয়ে ভোট দিয়েছি। ভোটের পরিবেশ ভালো।'
পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ৪,৭১৯ জন এবং নারী ভোটার ৪,৫২৯ জন। ভোর থেকেই কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল সাড়ে ৭টার কিছু সময় পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে ১৬টি আসনে মোট ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চট্টগ্রামে মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। ভোটারদের মধ্যে হিজড়া আছেন ৭০ জন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৩১৭ জন।
এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামে ১,৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ আছে ১২ হাজার ৬০১টি। প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থাকবেন। এর মধ্যে ৬৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ২৩টি। অর্থাৎ দুই বছর পর অনুষ্ঠেয় এবারের নির্বাচনে ৫৮টি ভোটকেন্দ্র কমেছে।
