ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে বিএনপি; রাখবে তীক্ষ্ণ নজর
আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও দলের বিজয় নিশ্চিত করতে সারাদেশে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিজ দলের বিপুল পরিমাণ নেতা-কর্মীর উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও সহিংসতা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে দলটি।
বিএনপির নেতারা জানান, যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দলটি, সেসব কেন্দ্রে বেশিসংখ্যক নেতাকর্মী সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কয়েকদিন আগে থেকেই ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি হেল্প বুথ বানানো হয়েছে। এসব বুথ থেকে ভোটারদের ভোটার নাম্বার দেয়া হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী টিবিএসকে বলেন, যদি কোথাও দেখা যায় ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বা ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাহলে সেটিও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, 'আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আমরা নিতে পারি না, আইন হাতে তুলে নিদে পারি না। আমরা শুধু নিশ্চিত করতে চাই, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা যেন নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন।'
দলের সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার আগেই প্রতিটি কেন্দ্রে ১১০ সদস্যের নির্বচানি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলত এই কমিটির সদস্যরাই সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
যেসব কেন্দ্রে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রর্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন এবং ভোটের দিন নানাভাবে কেন্দ্রে বা ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, সেসব কেন্দ্রে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের সব নেতাকর্মী নিয়োজিত থাকবেন।
বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা টিবিএসকে বলেন, 'ইতিমধ্যে একটি রাজনৈকি জোট বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ভোট কারচুপি, অবৈধ ব্যালট দিয়ে ভোট ও কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করেছে। দলের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীরা এসব কেন্দ্রের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখবেঙ।'
সিলেটে ফজরের নামাজের পরপরই নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে হাজির হতে নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। জাল ভোট ও কারচুপি ঠেকাতে তৎপর থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যাপারেও সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, 'আমাদের নেতাকর্মীরা ভোর থেকে ফলাফল ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত কেন্দ্রের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেঙ। কেউ কারচুপির চেষ্টা করলে তা সাথে সাথে প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে।'
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, 'সব ধরনের কারচুপি বা জালিয়াতি রুখে দিয়ে নির্বাচনের যে উৎসবমুখর, স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ আজকের গণ-আকাঙ্ক্ষা, সেটিকে বাস্তবায়ন করা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।'
