সৈয়দপুরে নগদ অর্থসহ জামায়াত নেতা আটকের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ দাবি জামায়াতের
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৫০ লাখ টাকা নগদ অর্থসহ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা আামিরকে আটকের ঘটনাকে 'সাজানো নাটক' ও 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করেছে দলটি।
জামায়াতের দাবি, ওই অর্থ সম্পূর্ণ বৈধ এবং ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য বহন করা হচ্ছিল।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
আগামীকালের (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে জুবায়ের বলেন, 'আমাদের একজন দায়িত্বশীল ও বয়স্ক নেতা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ব্যাংক বন্ধ থাকায় এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রয়োজনে তিনি সঙ্গে কিছু নগদ টাকা বহন করছিলেন।'
তিনি বলেন, 'ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল পার হওয়ার সময় তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়েই বিমানে ওঠেন। অথচ সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর সেখানে একটি নাটক সাজানো হয়েছে।'
টাকা বহনের বৈধতার স্বপক্ষে প্রমাণ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে তথ্য আছে, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ অভ্যন্তরীণ রুটে এই অর্থ পরিবহনে কোনো বাধা নেই মর্মে অনাপত্তিপত্র দিয়েছেন। ঢাকা থেকে তাকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলো, অথচ গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাকে আটক করে মিডিয়া ট্রায়াল করা হচ্ছে। এটি জামায়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি হীন প্রয়াস।'
আটক নেতার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানসিক নির্যাতনের কারণে ওই বয়স্ক নেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের আগের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
জুবায়ের অভিযোগ করেন, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজার-১, কুমিল্লা-৪ ও ৮ এবং বরগুনায় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, এজেন্টদের মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, 'প্রশাসনের একটি অংশ ও একদল লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। ২৪-এর ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ জনগণ মেনে নেবে না। যারা এসব করছেন, তারা জনরোষে পড়বেন।'
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাচনি ক্যাম্পেইন টিমের সদস্য ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ বলেন, 'সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে ভাবুন—কারও কাছে যদি অবৈধ বা সন্দেহজনক টাকা থাকে, তবে সে কি বিমানবন্দরের মতো এমন কঠোর ও অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তা নিয়ে যাবে? অবশ্যই যাবে না।'
তিনি বলেন, 'কোনো তদন্ত ছাড়াই সাংবাদিক বা কর্তৃপক্ষ কীভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন যে এই টাকার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক আছে? জামায়াতের স্পষ্ট অবস্থান হলো—এর সঙ্গে নির্বাচনের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। এটি জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।'
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ।
এসময় দলের পক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
