‘৭৪ লাখ’ টাকাসহ বিমানবন্দরে আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির
নির্বাচনের আগের দিন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে '৭৪ লাখ' টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম।
শেখ জাহিদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান ঢাকা থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে রওনা করেছেন—এই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার দুপুরে তাকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, বেলাল উদ্দিন প্রধানের ভাষ্যমতে অর্থের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার ওপরে।
তবে, সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম নিশ্চিত করেছেন গণনা শেষে বেলাল উদ্দিনের বহন করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ টাকা।
বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুর যান এই জামায়াত নেতা।
আটক করার সময় একটি ভিডিওতে বেলাল উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের হাজিপাড়ায়। ওই এলাকার দবিরুল ইসলামের ছেলে তিনি। এছাড়া তিনি ঠাকুরগাঁও শালন্দা কলেজের শিক্ষক।
লাগেজে কত টাকা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে ৫০ লাখের বেশি টাকা রয়েছে। এগুলো তার গার্মেন্টস ব্যবসার টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ের জামায়াত নেতার আটকের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ বলছে, আটকের সময় বেলাল উদ্দিনের কাছে নগদ অর্থসহ বেশকিছু নথিপত্রও পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।
এদিকে ভোটের আগের দিন বিপুল পরিমাণ টাকাসহ জামায়াত নেতাকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, 'বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তসাপেক্ষ। যদি প্রমাণিত না হয় যে টাকাটি চোরাই, ঘুষ বা অন্য কোনো অবৈধ উৎসের, তাহলে কেবল টাকা বহন করাই অপরাধ নয়।'
তিনি আরও বলেন বলেন, 'কোনো ব্যক্তির কাছে বড় অঙ্কের টাকা পাওয়া গেলে সেটি অবৈধ কি না, তা পুলিশই তদন্ত করে বলতে পারবে। টাকাটি চোরাই, লুট করা বা অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে স্পষ্ট করতে পারবে।'
তিনি বলেন, 'সাধারণত একজন ব্যক্তি এত বড় অঙ্কের টাকা বহন করেন না, যদিও কোনো ব্যবসায়ী বিশেষ কারণে করতে পারেন। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হওয়া স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের উদ্রেক করে।'
