চাহিদার ২৮% বেশি আমদানি সত্ত্বেও খুচরা বাজারে বাড়ছে ছোলার দাম
দেশে ছোলার বার্ষিক চাহিদার তুলনায় এবার আমদানি প্রায় ২৮.২৯ শতাংশ বেশি হওয়া সত্ত্বেও রমজানকে সামনে রেখে খুচরা বাজারে বাড়তে শুরু করেছে এই নিত্যপণ্যের দাম। গত বছরের তুলনায় এবার আমদানি প্রায় ৭৭.৬১ শতাংশ বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ছোলার দাম বেড়েছে ৪ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির চিত্র ইতিবাচক থাকলেও সরবরাহ চেইনের হাত বদলে বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। যথাযথ তদারকি করা না হলে পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্খা করছেন ভোক্তা সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, দুই সপ্তাহ আগে যে ভালো মানের ছোলা ৭৮ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৮২ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে মাঝারি মানের ছোলার দামও কেজিপ্রতি ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
পাহাড়তলী বাজারের দোকানিদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে, যা মূলত রমজানের আগাম চাহিদাকে কেন্দ্র করেই ঘটছে।
বাংলাদেশে ছোলার বার্ষিক সর্বোচ্চ চাহিদা ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৬ মেট্রিক টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় এবার ১ লাখ ২৮ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন বা প্রায় ৭৭.৬১ শতাংশ বেশি ছোলা আমদানি করেছে বাংলাদেশ।
তবে বর্তমান বাজারদর গত বছরের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। গত বছর রমজানের আগে ছোলার কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় উঠলেও এবার মানভেদে ৭৫ থেকে ৮২ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে ছোলা কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণে শক্ত মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'বর্তমানে বাজারে ছোলা, মটর ও খেজুরসহ রমজান সংশ্লিষ্ট পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'বিশেষ করে ছোলার বাজারে আমদানির আধিক্য থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেকটাই কমেছে। গত বছর রমজানের আগে যেখানে প্রতি কেজি ছোলা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার পাইকারি বাজারে তা মানভেদে ৭২ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।'
তবে অতিরিক্ত আমদানির ফলে বাজারে পণ্যের সহজলভ্যতা বাড়লেও, অনেক ব্যবসায়ী আগে বেশি দামে পণ্য কিনে এখন লোকসান দিয়ে বর্তমান বাজার দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন টিবিএসকে বলেন, 'সরকার বর্তমানে নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বাজার মনিটরিং বা পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তাদের বিশেষ কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। মূলত ক্ষমতার এই অন্তর্বর্তীকালীন বা ট্রানজিট পিরিয়ডের সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এক ধরনের স্থবির ও গা-ছাড়া ভাব দেখাচ্ছেন।'
কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
