সাংবাদিকদের তুলে নেওয়া গণমাধ্যমের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির দৃষ্টান্ত: টিআইবি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় থেকে রাতে ২১ জন কর্মীকে তুলে নেওয়ার ঘটনা সংবাদমাধ্যমের ওপর ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির দৃষ্টান্ত। তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান ও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রোববার টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত 'গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
শনিবার রাতে 'বাংলাদেশ টাইমস' এর কর্মীদেরকে অফিস থেকে তুলে নেওয়া প্রসঙ্গ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সেনা কর্মকর্তারা এ কাজ কি করতে পারেন? যদি পারেন, তবে সেনাবাহিনীর 'কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল' বিষয়টি কোথায়?"
তিনি বলেন, "এই ঘটনায় আমি জোর প্রতিবাদ এবং উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাতের বেলা একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যে যুক্তিতেই হোক না কেন, এটি বাংলাদেশের মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক ও সহিংসতার দৃষ্টান্ত।"
তিনি আরও বলেন, "কোনও সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তা নিরসনের বা প্রতিবাদ জানানোর যথাযথ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু এভাবে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে তুলে নেওয়া (যদিও পরে তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে) তা সত্ত্বেও এটি একটি অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছে। এটি শুধু ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর একটি প্রচণ্ড ভীতিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টির দৃষ্টান্ত।"
তিনি সেনাবাহিনীসহ যেকোনো সংস্থাকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি যে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিরসনের উপায় খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ টাইমসের বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে অফিস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণমাধ্যমটির এক মোজো রিপোর্টার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, গতকাল সেনা প্রধানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। সেটিকে কেন্দ্র কর রাতে নিকুঞ্জে তাদের অফিসে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। তখন নিউজরুমে যারা ছিলেন তাদের সবাইকে সেনাবাহিনী নিয়ে গেছে। তবে ঠিক কতজনকে সেনাবাহিনী নিয়ে গেছে তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
সেনাবাহিনী হাজী ক্যাম্পের (অস্থায়ী ক্যাম্প) লে. কর্নেল মাহবুব আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ টাইমসের কয়েকজন সংবাদকর্মীকে ক্যাম্পে নিয়ে এসেছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনো কয়কজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদেরও ছেড়ে দেয়া হবে।
কী কারণে এবং কয়জন সাংবাদিককে আনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে পরে জানানো হবে।
