১১ দলীয় জোটের ঐক্যকে নির্বাচিত করলে জাতিকে বিভক্ত হতে দেব না, পেছনের দিকে দৌঁড়াব না: শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র মূল্যবান ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটের ঐক্যকে নির্বাচিত করে তাহলে আমরা কথা রাখব।
তিনি বলেন, 'প্রথমত আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়া-কামড়ি করব না। পেছনের দিকে দৌঁড়াব না। আমরা যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ দেখতে চাই।'
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই বিপ্লবের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, 'একটি পক্ষ জুলাই স্বীকার করতে চান না। যাদের কারণে জেল থেকে মুক্তি, দেশে ফিরে আসা, নির্বাচনের কথা বলা—তারা তাদেরকে অস্বীকার করছেন! লজ্জা, এটা মেনে নেওয়া যায় না। যে উপকারীর উপকার স্বীকার করে না, যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে ভালো মানুষ হতে পারে না।'
বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'দেশবাসী রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত ৫৪ বছর দেখেছে। সেই বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে। মানুষের অধিকার হরণ হয়েছে। যেই রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে সেই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক আমরা চাই না।'
ব্যাংক লুটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'ব্যাংক ডাকাতি করে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আপনারা সেই বাংলাদেশ আবার চান? আপনারা পরিবর্তন চান? পরিবর্তন চাইলে গণভোটে 'হ্যাঁ' বলতে হবে। প্রথমে 'হ্যাঁ' ভোটে সীল মারতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষকে 'হ্যাঁ' ভোটে সীল মারতে হবে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।'
জনগণকে আশ্বস্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আমরা কথা দিচ্ছি, জনগণের আস্থা যদি আমাদের ওপর আসে, আমরা আস্থার প্রতিদান দেব। জুলাই বিপ্লবের পরে আমরা বলেছিলাম, আমরা কারো ওপর প্রতিশোধ নেব না, আমরা নিই নাই। আমাদের দলের লোকজন চাঁদাবাজ নন, আমরা চাঁদাবাজি করি না। আমরা দুর্নীতি করি না, দুর্নীতিকে আমরা ঘৃণা করি। দুর্নীতির সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বলেছিলাম মামলাবাজি করব না, মামলা বাণিজ্যও করব না। মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করব না।'
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'যুবকরা আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোনো দাবি জানাওনি। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদেরকে অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সাথে বলবে যে আমিই বাংলাদেশ। আমায় দেখে বুঝে নাও বাংলাদেশ কি জিনিস। আমরা সেই বাংলাদেশি গড়ে দিতে চাই। আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে ৬২ শতাংশ প্রার্থী যুবক। বার্তা দিচ্ছি, আমাদের আগামীর দেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ।'
নারীদের মর্যাদা ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, 'আন্দোলনে যুবকরা যেমন লড়াই করেছে, আমাদের মেয়েরাও লড়াই করেছে। ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছিল, জুলাই সেইদিন শক্তি ফিরে পেয়েছিল। মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি মেনে নিতে পারেনি। মুগুর বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনী, লাঠিয়াল বাহিনী সবকিছুকে যুবক-যুবতিরা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এখনো সেই একই প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, 'একসময় যারা মজলুম ছিলেন, তারা কেন জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন, আমরা বুঝতে পারি না। বিভিন্ন জায়গায় মা-বোনদের ডিস্টার্ব করা হচ্ছে। তারা এ দেশের নাগরিক, তাদের অধিকার আছে ভোট চাওয়ার। তাদের অধিকার আছে তাদের আদর্শ নিয়ে ভোটারদের কাছে যাওয়ার। আপনি আপনার আদর্শ নিয়ে যান, আমরা বাধা দেব না।'
প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে আপনারা দেবেন ফ্যামিলি কার্ড, আরেকদিকে সেই মায়ের গায়েই আপনারা হাত দিচ্ছেন। আপনারা মায়েদেরকে কীভাবে দেখবেন এখনই বোঝা যাচ্ছে। সকালের সূর্য দেখলেই বুঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে। মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল—আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। এমন করলে নিজেদের কবর রচনা করবেন। মেয়েদের গায়ে হাত দেবেন না, অপমান করবেন না কারণ আপনাদের মা আছে।'
জনসভা শেষে তিনি লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দেন। প্রার্থীরা হলেন— লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাপলা কলির প্রার্থী মাহবুব আলম, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের রেজাউল করিম ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী হাফিজ উল্লাহ।
জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এটিএম মাসুম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাহেদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব প্রমুখ।
