জামায়াতের মতো আ.লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইলে রাষ্ট্র আরও স্বৈরাচারী হবে: মাহফুজ আলম
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার সংস্কৃতি অব্যাহত রাখলে তা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে বলে সতর্ক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেছেন, অতীতে জামায়াতের সঙ্গে যা করা হয়েছিল, একইভাবে আওয়ামী লীগকে নির্মূল করার চেষ্টা করলে রাষ্ট্র আরও গভীর স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হবে।
গতকাল (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর 'ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন' আশা করা হয়েছিল উল্লেখ করে মাহফুজ আলম নির্মূলের রাজনীতির পুনরাবৃত্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, 'আমরা আর একটা দানব (মনস্টার) তৈরি করতে চাই না।'
তার মতে, একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করতে হলে ক্রমাগত দমনমূলক আইনের প্রয়োজন হয়, যা রাষ্ট্রকে আরও জবরদস্তিমূলক ও স্বৈরাচারী করে তোলে। এমনটা করা হলে ফলাফল অতীতের মতোই হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, অভ্যুত্থানের পর কাঙ্ক্ষিত 'নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের' ধারণাটি জনসাধারণ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।
তিনি স্বীকার করেন, বেসামরিক ও সামরিক আমলাতন্ত্রের সমন্বয়ে ক্ষমতার যে ত্রয়ী (ট্রায়ার্ড অব পাওয়ার) শেকড় গেড়ে বসেছে, তা ভাঙতে সরকার 'বাজেভাবে ব্যর্থ' হয়েছে। তিনি বলেন, 'এই আমলাতন্ত্র এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এখানেই সবকিছু থমকে গেছে।'
অর্থনীতি প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, সরকার কাঠামোগত সংস্কারের চেয়ে মূলত ব্যবস্থাটিকে সচল রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে। স্বচ্ছতা ও দক্ষতায় কিছুটা উন্নতি হলেও ভূমি সংস্কার ও সম্পদ পুনর্বণ্টনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো কয়েক দশক ধরে স্পর্শ করা হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতি 'যেকোনো দিন ধসে পড়তে পারে'।
বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের সংস্কৃতি বন্ধ করার অভিপ্রায় থাকলেও গত এক-দেড় বছরে এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি।
সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সমালোচনা করে মাহফুজ আলম বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দিতে গিয়ে সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ 'পঙ্গু' হয়ে গেছে। তিনি রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের কর্মপরিধি সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া উচিত বলে মত দেন।
তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, তারা যে যন্ত্রণা ও ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে, তা
সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের বোধকে আরও শানিত করেছে।
তিনি বলেন, 'সরকার ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু একটি প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ হয়নি।' অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পথ সংশোধনের এখনো যথেষ্ট সময় আছে বলেও তিনি মনে করেন।
