চোরাই মোবাইল যায় গুলিস্তানে, আইএমইআই পরিবর্তন করে ফের বিক্রি; গ্রেপ্তার এক: ডিবি
রাজধানীর গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে চোরাই মোবাইল ফোনের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর পরিবর্তন করে সেগুলো ফের বিক্রি করা চক্রের এক হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি-ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে নেয়া হয় গুলিস্তানে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলিস্তানের পাতাল মার্কেটের গেইটসংলগ্ন একটি দোকান থেকে এমন একটি চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগ।
রোববার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবির (সাইবার উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।
গ্রেপ্তারকৃত মো. আসাদুজ্জামান (৩৮) ওই দোকানের কর্মচারী। এ সময় তার কাছ থেকে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের দুটি সফটওয়্যার, দুটি ল্যাপটপ, সরঞ্জামাদি, ১৬টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৫ হাজার ৫৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চোরাই মোবাইল ফোন ও সরঞ্জামাদির আনুমানিক বাজার মূল্য ৪ লাখ টাকা।
নাসের রিকাবদার বলেন, 'ডিবি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কতিপয় ব্যক্তি পল্টন থানাধীন গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স আন্ডারগ্রাউন্ড পাতাল মার্কেটের গেইটসংলগ্ন একটি দোকান থেকে চোরাই মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে মোবাইল কোম্পানির নির্দিষ্ট আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রি করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে মো. আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।'
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান ও তার পলাতক সহযোগী রাজন শেখ আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন চক্রের মূল হোতা। তাদের দলে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে, যারা রাস্তায় চুরি, ছিনতাই ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে আসাদুজ্জামান ও রাজন শেখের কাছে হস্তান্তর করত। পরে তারা আইএমইআই পরিবর্তন করে ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় গোপনে বিক্রি করত।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ডিএমপির পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।
ডিসি নাসের আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসাদুজ্জামানের কাছে এমন দুটি সফটওয়্যারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলোর মাধ্যমে ডাটা কেবলের সাহায্যে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। বিষয়টি 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক'।
প্রাথমিক তদন্তে আরও অন্তত ৮-১০টি দোকানের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে একই ধরনের কার্যক্রম চলছে। দোকানগুলো বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক অভিযান সম্ভব না হলেও শিগগিরই ব্যাপক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গুলিস্তানকেন্দ্রিক চোরাই মোবাইল ফোনের সিন্ডিকেট সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি নাসের বলেন, গত এক মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ফুটপাত থেকে বেশ কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। সেগুলো পরীক্ষা করে আইএমইআই-সংক্রান্ত অসংগতি পাওয়া যায়। যা থেকে এই চক্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়।
'মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করা হলে প্রকৃত মালিক আর সেই ফোন শনাক্ত করতে পারেন না। এতে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে এসব মোবাইল বিক্রি ও ব্যবহার করতে পারে,' বলেন তিনি।
