ঢাকা-৯: নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা তার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
'ফুটবল' প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী তার ইশতেহারে গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা নিরসন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সংসদ সদস্যের জবাবদিহিতাকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ডা. তাসনিম জারা তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দিয়ে এ নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেন।
পোস্টে ডা. তাসনিম জারা বলেন, 'ঢাকা-৯ শহরের প্রাণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবহেলার শিকার। গুলশান-বনানীর মতো সমান ট্যাক্স ও বিল পরিশোধ করেও এখানকার মানুষ তৃতীয় শ্রেণির সেবা পাচ্ছেন।'
পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে জানান, রাষ্ট্র আমাদের কেবল রাজস্ব আদায়ের উৎস মনে করে, সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করে।
তিনি তার ইশতেহারে বর্তমান গ্যাস সংকটকে 'প্রতারণা' আখ্যা দিয়ে জানান, গ্যাস সংযোগ না থাকলেও গ্রাহকদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে তিনি সংসদে 'নো সার্ভিস, নো বিল' নীতির পক্ষে আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার করেন।
এছাড়া এলপিজি সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রবর্তন, বর্ষা মৌসুমের আগেই নিয়মিত খাল ও নর্দমা পরিষ্কার এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা তুলে ধরে ডা. তাসনিম জারা জানান, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রায় ৭-৮ লাখ মানুষের জন্য একটি মাত্র বড় হাসপাতাল থাকাকে তিনি 'নিষ্ঠুর কৌতুক' বলে মন্তব্য করেন। ইশতেহারে তিনি হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং এলাকার প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিককে 'মিনি হাসপাতাল' হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
এছাড়া ডেঙ্গু মোকাবিলায় বছরজুড়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে একটি স্থায়ী 'মশা নিধন টাস্কফোর্স' গঠনের কথাও জানান তিনি।
এলাকার সড়কগুলো মাদক সিন্ডিকেটের কবলে চলে যাওয়ার অভিযোগ তুলে ডা. তাসনিম জারা বলেন, 'সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় নারী ও শিশুদের চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।' তার ইশতেহারে স্কুল, কলেজ ও গার্মেন্টস এলাকায় নিরাপদ করিডোর গড়ে তোলা, সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে ভর্তি বাণিজ্য ও ঘনঘন নীতি পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ''শিক্ষার্থীদের বর্তমানে 'পরীক্ষার বস্তু' বানানো হয়েছে।'' নির্বাচিত হলে এমপি হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো কোটা বা ব্যক্তিগত সুপারিশের সুযোগ রাখবেন না বলে তিনি অঙ্গীকার করেন তার ইশতেহারে।
ইশতেহারে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, কোডিং ও এআই শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অভিভাবক-শিক্ষক ফোরাম গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য 'স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯' নামে একটি বিশেষ তহবিল গঠন, জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে তার ইশতেহারে। এছাড়া কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক 'কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার' চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ডা. তাসনিম জারা জানান যে তিনি কোনো 'অতিথি পাখি' নন। জয়ী হলে এক মাসের মধ্যে নির্বাচনি এলাকায় একটি স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করবেন, যেখানে সন্ধ্যায়ও সাধারণ মানুষ সেবা ও পরামর্শ পাবেন। এছাড়া অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি 'ডিজিটাল ওপেন ড্যাশবোর্ড' চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
ইশতেহারের সমাপ্তিতে ভোটারদের উদ্দেশে ডা. তাসনিম জারা জানান, এটি কেবল কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এলাকাবাসীর সঙ্গে তার একটি চুক্তি। তিনি বলেন, 'একজন ডাক্তার হিসেবে আমি জানি রোগ কোথায় এবং ওষুধ কী। এবার আমাকে সুযোগ দিন।'
