হাসিনার সাবেক পিয়ন ‘পানি জাহাঙ্গীর’-এর জমি জব্দ ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) জাহাঙ্গীর আলমের ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের সাতটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১ কোটি ৩ লাখ টাকা অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধের পৃথক দুটি আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলমের অর্জিত স্থাবর সম্পদ স্থানান্তর, হস্তান্তর, দলিল সম্পাদন বা অন্য কোনো পন্থায় মালিকানা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অর্জিত স্থাবর সম্পদ জব্দ করা আবশ্যক। এছাড়া কামরুন নাহারের নামে অর্জিত অস্থাবর সম্পদ (ব্যাংক হিসাবে বিদ্যমান স্থিতিসহ) স্থানান্তর বা হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন দুটি মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কামরুন নাহারের নামে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার ৮৮২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
জাহাঙ্গীর আলমের সংশ্লিষ্ট আবেদনে বলা হয়, তার নিজ নামে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তিনি ও তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ভোগ করার মানসে ৮টি ব্যাংকের ২৩টি হিসাবে সর্বমোট ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ১০৭ টাকা জমা (ক্রেডিট) করেছেন। জমা করা ওই অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে উত্তোলন বা স্থানান্তর করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুদক মামলাটি তদন্ত করছে। জাহাঙ্গীর আলমের নামে অর্জিত স্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের সম্ভাবনা থাকায় তা জব্দ করা আবশ্যক।
কামরুন নাহারের আবেদনে বলা হয়, তিনি তার নিজ নামে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। পেশায় একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের সহায়তায় দুটি ব্যাংকের মোট চার শাখার ৭টি হিসাবে সঞ্চয়ী ও ডিপিএস হিসাব খুলে সর্বমোট ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার ৮৫৫ টাকা জমা করেন এবং ওই অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন এবং তদন্তকালে জানা যাচ্ছে যে, তাঁর অর্জিত এসব অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ অবরুদ্ধ করা একান্ত আবশ্যক।
