আইপিএল ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি: বাণিজ্য উপদেষ্টা
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, 'ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।'
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন আমদানি নীতি আদেশ সংক্রান্ত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, 'পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের উদার বাণিজ্য কার্যক্রম চালু রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, সে পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট কোনো দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। বর্তমান সরকার সামগ্রিকভাবে উদার বাণিজ্যে বিশ্বাসী।'
তিনি বলেন, 'ভারতের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এটার কোনো প্রভাব এসেছে কি না সেটা দেখছি।'
এসময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, 'দৈনন্দিন যেসব ঘটনা, এগুলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে ভারত বিভিন্ন স্থলবন্দর বন্ধ করে দিয়ে, গত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। তার ফলে আমাদের রপ্তানি কমেছে। কিন্তু আমরা সে ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিইনি।'
ভারতে পাট রপ্তানি বন্ধের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, 'সেটি আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও জোগান ঠিক রাখার জন্য করা হয়েছে। অন্য দেশের ক্ষতি করার জন্য কিছু করা হয়নি। আমাদের নীতিগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নেওয়া। আরেকটি দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য কখনো করা হয়নি।'
আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আসছে
বর্তমান আমদানি নীতি আদেশে (২০২১-২৪) বড় পরিবর্তন এনে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন আমদানি নীতি আদেশের (আইপিও) খসড়া তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এতে বাণিজ্য সহজীকরণ ও উদারীকরণে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।
তিনি বলেন, 'এ নীতি আগামী উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেই উপস্থাপন করা হবে।'
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, 'আমদানি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নীতিমালা কেবিনেটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে নতুন আমদানি নীতি আদেশের মাধ্যমে আমদানি উদার ও সহজ করা হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য সব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে মিটিং করেছি আজ। খুব দ্রুতই আমরা সেটা কেবিনেটে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি। আগামী কেবিনেটে না হলে পরবর্তী ক্যাবিনেটে এটি উঠবে।'
এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, 'বাণিজ্য নীতির পাতায় পাতায় পরিবর্তন হচ্ছে। আপনারা জানেন আমরা বাণিজ্য সহজ করতে চাচ্ছি। আমরা আন্তর্জাতিকভাবেও ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের ট্রেড ফ্যাসিলিটিশন এগ্রিমেন্ট এ স্বাক্ষর করেছি।'
তিনি বলেন, 'সে হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন করে ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজ করা হচ্ছে।'
সমস্ত আইপিও জুড়ে একটা বড় পরিবর্তন থাকবে বলেও জানান তিনি।
রমজানের বাজার উপলক্ষে পর্যালোচনা সভা ১৯ জানুয়ারি
এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, 'আসন্ন রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনায় আগামী ১৯ জানুয়ারি একটি সভার আহ্বান করা হয়েছে। সব অংশীজনকে নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। পর্যালোচনা করার পর পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।'
